
দীর্ঘ প্রায় আট দশকের নিরলস সংগ্রাম এবং অপেক্ষার পর এক ঐতিহাসিক জয় পেলেন আসামের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষ। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আসাম সরকার । চলতি বছরের শুরুতে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংগঠনগুলির তীব্র ‘সত্যাগ্রহ’ এবং আমরণ অনশন আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে ।
এর আগে, রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর (Department of Elementary Education) এই বিষয়ে ডিরেক্টরেট অফ এলিমেন্টারি এডুকেশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল । নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020) মেনে রাজ্য সরকার যখনই প্রাথমিক স্তরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় শিক্ষাদান ও পঠনপাঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত করবে, তখনই এই ভাষাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে বলে জানানো হয়েছে । এই পদক্ষেপের ফলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংগঠনগুলির অন্যতম প্রধান দাবি পূরণের পথ অনেকটাই প্রশ্বস্ত হলো ।
ভাষার স্বীকৃতির জন্য বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের এই লড়াইয়ের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ। আসাম, ত্রিপুরা এবং অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এই সম্প্রদায়ের মানুষরা ১৯৮০-র দশক থেকেই তাঁদের মাতৃভাষাকে সরকারিভাবে শিক্ষার মাধ্যম করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন । গত ফেব্রুয়ারি মাসে নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী মহাসভার নেতৃত্বে শিলচরে আমরণ অনশন বা ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, এমনকি কয়েকজন আন্দোলনকারীকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয় । রাজ্য সরকারের এই সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিকে তাই সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এক বিরাট সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।