
খাবার বিলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ‘এলপিজি চার্জ’ (LPG charges) বা ‘জ্বালানি খরচ’ (fuel cost recovery) বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না। বুধবার দেশের সমস্ত হোটেল এবং রেস্তোরাঁর প্রতি এই কড়া নির্দেশিকা জারি করল সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি বা সিসিপিএ (CCPA) । ক্রেতা সুরক্ষা আইন, ২০১৯ (Consumer Protection Act, 2019)-এর অধীনে এই ধরনের অতিরিক্ত চার্জ চাপানোকে একটি সম্পূর্ণ ‘অন্যায় বাণিজ্য অনুশীলন’ (unfair trade practice) বলে আখ্যা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ।
ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইনে (NCH) গ্রাহকদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ আসার পরই এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল সিসিপিএ । অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করেছিলেন যে, হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলি মেনুতে থাকা খাবারের দাম এবং প্রযোজ্য করের (taxes) বাইরে গিয়েও বিলে ‘গ্যাস সারচার্জ’ বা জ্বালানির খরচের মতো অতিরিক্ত ফি যোগ করছে । এই বিষয়ে একটি সরকারি বিবৃতিতে সিসিপিএ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এলপিজি, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হলো যেকোনো ব্যবসার দৈনন্দিন পরিচালনার অংশ । তাই এই সমস্ত খরচ মেনুতে উল্লেখিত খাবারের দামের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে ।
নির্দেশিকাটিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, “কোনো হোটেল বা রেস্তোরাঁ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ডিফল্ট হিসেবে বিলে ‘এলপিজি চার্জ’ বা অন্য কোনো আনুষঙ্গিক চার্জ চাপাতে পারবে না” । মেনুতে যে দাম লেখা থাকবে, তা সমস্ত খরচ মিলিয়েই চূড়ান্ত দাম হতে হবে, যার ওপর শুধুমাত্র প্রযোজ্য সরকারি কর যোগ করা যাবে । সিসিপিএ আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, কোনো স্বেচ্ছামূলক নয় এমন চার্জ গ্রাহকদের দিতে বাধ্য করা যাবে না । বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে এই ধরনের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ এবং কোনো ক্ষেত্রে এই নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ।