দীর্ঘদিনের জমা জলের সমস্যা এবং বিজ্ঞানসম্মত নিকাশি ব্যবস্থার অভাব শিলচরে আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিগত দুই দশক ধরে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী কোনো সমাধান না মেলায় শহরের সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ । তাঁরা অভিযোগ করছেন যে, একের পর এক বিধায়ক ক্ষমতায় এলেও এই জ্বলন্ত সমস্যার সমাধানে সকলেই চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন ।
কংগ্রেস নেতা বীথিকা দেব এবং সুস্মিতা দেব থেকে শুরু করে বিজেপির দিলীপ কুমার পাল এবং বিদায়ী বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী— প্রত্যেকেই তাঁদের মেয়াদের শেষ দিকে এসে ভোটারদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আর একবার সুযোগ পেলেই কৃত্রিম বন্যার সম্পূর্ণ সমাধান করা হবে । কিন্তু বাস্তবে এই সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি । ফলস্বরূপ, প্রতি বছর বর্ষার সময় শহরের এক বিশাল অংশ জলের তলায় চলে যায় । সামনেই নির্বাচন, তাই বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ এখন সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে । শিলচর-ভিত্তিক এনজিও ‘নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি’-র এক প্রতিনিধির মতে, এই বিষয়টি “প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক অবহেলার” চরম রূপকে প্রতিফলিত করে । তিনি জানান যে, ড্রেন পরিষ্কার করা বা জবরদখল উচ্ছেদের মতো প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর শোনা গেলেও, কাজের কাজ কিছুই হয় না ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সোনাই রোডের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “একসময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত খালগুলি আজ আবর্জনা, পলি এবং বেআইনি জবরদখলে আটকে রয়েছে” । অন্যদিকে, লিঙ্ক রোডের এক বাসিন্দার মতে, ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়েই প্রশাসন জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যার খেসারত দিতে হয় পুরো শহরকে । বিলপারের এক ভোটার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এবার দলমত নির্বিশেষে সব প্রার্থীর কাছেই তাঁরা জবাবদিহি চাইবেন ।