Read today's news --> ⚡️Click here 

মোদী সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইনের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন গোপনীয়তা আইনের বিরুদ্ধে এবার দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন একদল সাংবাদিক এবং স্বচ্ছতার দাবিতে সোচ্চার সমাজকর্মীরা । তাঁদের অভিযোগ, এই নতুন আইন সংবাদমাধ্যমের কাজে বাধা সৃষ্টি করবে এবং জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখতে সরকারি আধিকারিকদের সুযোগ করে দেবে । আগামী ২৩শে মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত চারটি মামলার শুনানি হতে চলেছে ।

মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে গত নভেম্বরে কার্যকর হওয়া ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট (Digital Personal Data Protection Act) এবং এর সাথে যুক্ত ২০ বছরের পুরোনো তথ্য জানার অধিকার বা আরটিআই (RTI) আইনের একটি সংশোধনী নিয়ে । আগে ‘জনস্বার্থের’ খাতিরে আধিকারিকরা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারতেন । কিন্তু এই নতুন এক লাইনের সংশোধনীর ফলে যেকোনো প্রকার “ব্যক্তিগত তথ্য” প্রকাশ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখা হয়েছে ।

মামলাকারীদের মতে, এর ফলে সরকারের স্বচ্ছতা তলানিতে গিয়ে ঠেকবে এবং সাংবিধানিক নীতি ক্ষুণ্ণ হবে । সুপরিচিত সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ উদাহরণ দিয়ে জানান, এই আইনের ফলে সরকার চাইলে দুর্নীতি বা নিম্নমানের প্রকল্পের সাথে জড়িত কোনো ঠিকাদার বা আধিকারিকের নাম প্রকাশ করা থেকে সহজেই আটকাতে পারবে । অন্যদিকে, আরটিআই কর্মী ভেঙ্কটেশ নায়েক আদালতে জমা দেওয়া তাঁর আবেদনে এই পরিবর্তনকে “অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা এবং উন্মুক্ত শাসনের ধারণার পক্ষে ধ্বংসাত্মক” বলে আখ্যা দিয়েছেন ।

সাংবাদিকদের জন্য এই আইনের অন্যতম চিন্তার কারণ হলো জরিমানার অঙ্ক। ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে সাংবাদিকদের জন্য ছাড় থাকলেও, ভারতের এই আইনে সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি । নিয়ম না মানলে সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য ২৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে । এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার মতে, আইনটি “খবর সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং দায়বদ্ধতার সাংবাদিকতায় প্রভাব ফেলবে” । কারণ, এবার থেকে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির খবর করার আগে তাদের কাছ থেকে সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে । নয়াদিল্লি-ভিত্তিক সাংবাদিকদের গোষ্ঠী ‘দ্য রিপোর্টার্স কালেকটিভ’ শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে যে, এই বিশাল জরিমানার হাত থেকে বাঁচতে নাগরিক ও সাংবাদিকরা বাধ্য হয়ে নিজেদের সেন্সর (self-censor) করবেন ।

যদিও সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধের এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে । সরকারের দাবি, তারা শুধুমাত্র বেআইনি বিষয়বস্তু সরানোর নির্দেশ দেয় এবং আরটিআই আইন এখনও “সর্বোচ্চ প্রকাশ এবং ন্যূনতম ছাড়”-এর নীতি মেনেই চলছে । গত বছর তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংসদে জানিয়েছিলেন যে, এই পরিবর্তনগুলি “ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না” বরং “ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার এবং তথ্য জানার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবে” । রয়টার্সের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলেও ভারতের আইন মন্ত্রক এবং আরটিআই-এর দায়িত্বে থাকা কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগ (DoPT) এই আইনি চ্যালেঞ্জগুলির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি । এই মামলাগুলির চূড়ান্ত রায় আসতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

মোদী সরকারের নতুন গোপনীয়তা আইনের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
Scroll to top