
জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ক্রমবর্ধমান সুবিধাভোগীদের ওপর ভরসা করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসামে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক আরও মজবুত করতে চাইছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) । বিগত নির্বাচনগুলির তুলনায় এবার আসন সংখ্যার পূর্বাভাসের বদলে ৫০ শতাংশ ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে শাসক দল । ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৬ লক্ষ, সেখানে বর্তমানে তা ১.৫ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে ।
মহিলাদের লক্ষ্য করে নেওয়া জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলিই মূলত বিজেপির এবারের নির্বাচনী কৌশলের প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই কৌশলের একটি বড় প্রমাণ হলো ‘অরুণোদয়’ (Orunodoi) প্রকল্প । গত ১০ই মার্চ রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ লক্ষ সুবিধাভোগীর প্রত্যেককে এককালীন ৯,০০০ টাকা করে প্রদান করেছে । মোট ৩,৬০০ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক বণ্টন ছিল রাজ্যের ইতিহাসে বৃহত্তম ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT) বা সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর । ২০২০ সালে কোভিড চলাকালীন মাত্র ৮৩০ টাকা মাসিক ভাতা দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে বর্তমানে মহিলাদের মাসে ১,২৫০ টাকা করে দেওয়া হয় । মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে, সর্বশেষ এই হস্তান্তরের মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের কিস্তির পাশাপাশি আসন্ন ‘রঙালী বিহু’-র জন্য বিশেষ ভাতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল ।
‘অরুণোদয়’-এর পাশাপাশি ‘মহিলা উদ্যমিতা প্রকল্প’-ও (Mahila Udyamita Scheme) রাজ্যের মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । ইতিমধ্যেই ৩৩.৫ লক্ষেরও বেশি মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, যেখানে তিন বছরে পর্যায়ক্রমে মোট ৭২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় । মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বিহারের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের মডেল জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (NDA) নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “আমরা ১২৬টি আসনের মধ্যে প্রায় ১০২টিতে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমরা আসন সংখ্যা নিয়ে কথা বলব না, তবে আমাদের লক্ষ্য হলো ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়া” । ২০২৩ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের (delimitation) পর এটিই হতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন । নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার পর ১৫ই মার্চ পর্যন্ত মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২.৫০ কোটিতে ।