
বেশ কয়েকদিনের তীব্র জল্পনা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে অখিল গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন রাইজোর দলের (Raijor Dal) সাথে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করল কংগ্রেস । বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিলমোহর পড়া এই চুক্তির ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধীদের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে লোকসভার সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের নামই সর্বসম্মতিক্রমে উঠে এসেছে । রাইজোর দল বিরোধী জোটে কংগ্রেসের পঞ্চম শরিক হিসেবে যোগ দেওয়ায়, এবার আসামে এনডিএ (NDA) শিবিরের বিরুদ্ধে ছয় দলের এক ঐক্যবদ্ধ বিরোধী ফ্রন্টের সরাসরি লড়াই হতে চলেছে । এই জোটে কংগ্রেস এবং রাইজোর দল ছাড়াও রয়েছে সিপিআই(এম), সিপিআই(এমএল)এল, অল পার্টি হিল লিডারস কনফারেন্স (APHLC) এবং আসাম জাতীয় পরিষদ (AJP) ।
আসন রফার এই চূড়ান্ত সমীকরণ অনুযায়ী, বিরোধী জোট রাজ্যের ১২৬টি আসনের মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করেছে । এর মধ্যে কংগ্রেস একাই ৯৪টি আসনে লড়ছে । চুক্তি অনুযায়ী রাইজোর দল মোট ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যার মধ্যে দুটি আসনে কংগ্রেসের সাথে তাদের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ হবে । অন্যদিকে, এজেপি ১০টি, সিপিআই(এম) এবং এপিএইচএলসি ২টি করে এবং সিপিআই(এমএল)এল একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে । এই চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মারঘেরিটা কেন্দ্রটি রাইজোর দলকে ছেড়ে দেওয়া । এর আগে এই আসনটি প্রতীক বরদলৈকে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁর বাবা প্রদ্যুৎ বরদলৈ সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় প্রতীক নিজেই সরে দাঁড়ান । রাইজোর দলের প্রধান অখিল গগৈ পুনরায় তাঁর পুরোনো কেন্দ্র শিবসাগর থেকেই নির্বাচনে লড়বেন ।
জোটের স্বার্থে দলের এই ছাড় দেওয়া প্রসঙ্গে গৌরব গগৈ বলেন, “কংগ্রেসের মতো একটি দলের পক্ষে আসন ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়, তবে রাজ্যের স্বার্থে এবং এর ভবিষ্যতের কথা ভেবে জাতীয় নেতৃত্ব এতে সম্মতি দিয়েছে” । তিনি অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভয় দেখিয়ে অত্যন্ত “নিম্নমানের রাজনীতি” করছেন এবং বিরোধীদের লক্ষ্য হলো এমন এক নতুন আসাম গড়া যেখানে শুধু একটি পরিবারের নয়, সবার উন্নয়ন হবে ।
গৌরব গগৈয়ের বক্তব্যকে সমর্থন করে অখিল গগৈও স্পষ্ট জানান যে, বিজেপি পরিচালিত “অগণতান্ত্রিক, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক” সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তাঁরা কংগ্রেসের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । ক্ষমতা এলে বিরোধী জোট গৌরব গগৈকেই মুখ্যমন্ত্রী করবে বলে তিনি ঘোষণা করেন । রাজ্যের সামাজিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য বিজেপি-আরএসএস (BJP-RSS)-এর প্রতি আসামের মানুষের চরম অসন্তোষ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন ।