
দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে এবং জ্বালানি সঙ্কটের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার । রবিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে দেশের সমস্ত পেট্রোল পাম্পেই প্রয়োজনীয় মজুত রয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের অযথা গুজবে কান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই । গ্রাহকদের আরও স্বস্তি দিতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি (excise duty) কমানোর কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র । এর পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানির রফতানির ওপর শুল্ক বসানো হয়েছে ।
রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহও দেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক। বর্তমানে প্রতিদিন ৫৫ লক্ষেরও বেশি সিলিন্ডার গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহও সঙ্কট-পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে । পরিবহণ এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে পিএনজি (PNG) কানেকশন বা পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজও দ্রুতগতিতে বাড়ানো হচ্ছে । শুধুমাত্র মার্চ মাসেই নতুন করে ২.৯ লক্ষেরও বেশি বাড়িতে এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া সার কারখানাগুলিতেও গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে ।
জ্বালানি পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতের আবহে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও তথ্য দিয়েছে কেন্দ্র। বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে ১৮টি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করছে এবং ওই অঞ্চলে কর্মরত সমস্ত ভারতীয় নাবিক সুরক্ষিত আছেন । ইতিমধ্যেই ৯০০ জনেরও বেশি নাবিক এবং ৫ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন বলে বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে । ওমানের সালালাহতে হামলায় আহত এক ভারতীয় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ভারতীয় মিশন তাঁকে সমস্ত রকম সহায়তা করছে ।