
মিজোরামের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন বা জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত আইজল-শিলচর হাইওয়ের (Aizawl-Silchar Highway) মেরামতের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় কড়া পদক্ষেপ নিল গৌহাটি হাইকোর্ট । এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নির্দিষ্ট কিছু অংশের মেরামতের দায়িত্বে থাকা হরিয়ানার ঠিকাদার সংস্থা ‘জে ইনফ্রাটেক লিমিটেড’ (J Infratech Limited) কীভাবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাকি কাজ শেষ করবে, সেই বিষয়ে তাদের কাছে স্পষ্ট রূপরেখা বা প্ল্যান জানতে চাইল আদালত ।
মিজোরাম ট্রাক ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন (MTDA)-এর সাধারণ সম্পাদক লালহমুদিকা তোছাং (Lalhmudika Tochhawng) কাজের এই ধীরগতি এবং তার জেরে পরিবহণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে একটি জনস্বার্থ মামলা বা পিআইএল (PIL) দায়ের করেছিলেন । সোমবার বিচারপতি মাইকেল জোহানখুমা (Michael Zothankhuma) এবং বিচারপতি নেলসন সাইলো (Nelson Sailo)-র ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ঠিকাদার সংস্থাকে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে বাকি ৬৫ শতাংশ কাজ কীভাবে শেষ করা হবে, তার একটি হলফনামা বা অ্যাফিডেভিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে । উল্লেখ্য, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর অধীনে এই সংস্থাটিকে আগামী এপ্রিল, ২০২৬-এর মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।
শুনানি চলাকালীন আদালত এনএইচআইডিসিএল-কেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত হলফনামা জমা দিয়ে তাদের জানাতে হবে যে ঠিকাদার সংস্থার কাজ তদারকি করার জন্য তারা কী ধরনের পরিদর্শন ব্যবস্থা বা ‘ইন্সপেকশন মেকানিজম’ (inspection mechanism) ব্যবহার করছে । এর পাশাপাশি রাস্তা নির্মাণের কাজে চুনাপাথর বা লাইমস্টোন (limestone) ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও উভয় সংস্থাকে নিজেদের হলফনামায় স্পষ্টীকরণ দিতে বলেছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ।