এএসপিটিএ শিক্ষক আন্দোলন ফের তীব্র হয়ে উঠেছে বেতন প্রদান ব্যবস্থা নিয়ে অসম সরকারের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায়। বুধবার, ২৬ আগস্ট রাজ্যজুড়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে সতর্কীকরণ পত্র জমা দিচ্ছেন প্রভাবিত শিক্ষকরা, এবং অসম রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষক সংস্থা (এএসপিটিএ) আগামী পদক্ষেপ নির্ধারণে ২৯ আগস্ট গুয়াহাটিতে একটি রাজ্যব্যাপী বৈঠক আহ্বান করেছে ।
এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে শিক্ষামন্ত্রী রণজ পেগুর দেওয়া আশ্বাসের পর, যখন ১১ আগস্ট মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এএসপিটিএ তাদের অনির্দিষ্টকালের প্রতিবাদ স্থগিত করেছিল। ওই বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত হওয়া শিক্ষকদের জন্য এসএনএ-স্পর্শ ভিত্তিক বেতন ব্যবস্থা বাতিল করা হবে ।
বেতন সমস্যার মূল কারণ
শিক্ষকরা আশা করেছিলেন যে ২৫ আগস্টের মধ্যে পূর্ববর্তী বেতন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। তবে এএসপিটিএ জানিয়েছে, ফিন-আসাম সিস্টেমে এখনও কোনো সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন করা হয়নি, যার ফলে শিক্ষকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে সিস্টেমে এখনও সমগ্র শিক্ষা অসমকে পরিচালক, দিসপুরকে কোষাগার এবং বিএমসিকে ডিডিও হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তাদের বেতন এখনও স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নিয়মিত ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রকল্পভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রক্রিয়া করা হতে পারে ।
এএসপিটিএ যুক্তি দিয়েছে যে বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত হওয়া শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য তৈরি একটি বেতন ব্যবস্থায় রাখা উচিত নয়। সংগঠনের মতে, এই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষকরা ইতিমধ্যে ১১ বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ত্যাগ করেছেন, যা তাদের জন্য একটি বড় ত্যাগ ছিল ।
বিতর্কের প্রাথমিক পর্যায় ও পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি
এই সমস্যা প্রথম তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে ১০ আগস্ট, যখন শিক্ষকদের আপত্তি সত্ত্বেও তাদের অ্যাকাউন্টে বেতন জমা করা হয়। এএসপিটিএ অভিযোগ করেছিল যে এই পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ছিল এবং প্রভাবিত শিক্ষকদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি। এরপর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় ।
আগস্টের শুরুতে এএসপিটিএ প্রেসিডেন্ট নীলাক্ষী গগৈ ও সাধারণ সম্পাদক রতুল চন্দ্র গোস্বামী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে প্রায় ১৫,০০০ শিক্ষক সমগ্র শিক্ষার অধীন পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালকের (ডিইই) অধীনে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন, যদিও তাদের মাসিক বেতন ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা কমেছিল। সংগঠনটি অভিযোগ করেছিল যে সরকার এখন রাজ্য কোষাগার থেকে তাদের বেতন প্রদান বন্ধ করে এসএনএ স্পর্শ মডিউলের মাধ্যমে বেতন বিতরণের একটি ব্যবস্থা চালু করেছে, যার বিরোধিতা করে সংগঠনটি ১২ আগস্ট থেকে প্রতিদিন ৩০০ শিক্ষকের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ।
মন্ত্রীর আশ্বাস ও বাস্তবায়নে বিলম্ব
১১ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী রণজ পেগু ঘোষণা করেছিলেন যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জন্য চালু করা এসএনএ-স্পর্শ ভিত্তিক বেতন প্রদান ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে এবং তারা যাতে পূর্ববর্তী ব্যবস্থার মাধ্যমেই বেতন পেতে থাকেন তার ব্যবস্থা করা হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই এএসপিটিএ কর্মকর্তারা ১২ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা তিন ঘণ্টার দৈনিক অবস্থান বিক্ষোভ ২৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ।
পেগু তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমরা তাদের এসএনএ-স্পর্শের অধীনে না রেখে অন্যান্য নিয়মিত শিক্ষকদের মতোই তাদের বেতন প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংস্কারের কারণে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, তবে সমস্যাটির সমাধান হবে” । তবে এএসপিটিএ-র মতে, প্রতিশ্রুত পরিবর্তন এখনও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রতিফলিত না হওয়ায় সংগঠনটি আবারও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছে।
নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার পটভূমি
২০২৩ সালে অসম সরকার রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪০,০০০ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষককে নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৪,০০০ চুক্তিভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়মিত করা হয়, যেখানে শিক্ষকদের একই পদে থাকা বা কমানো বেতন কাঠামোয় নিয়মিত পদে যোগ দেওয়ার বিকল্প দেওয়া হয়েছিল । এই বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার (এসআরডি) অধীনে মোট ১৫,০২৯ জন শিক্ষক নিয়মিতকরণের আওতায় এসেছেন ।
২০২৫ সালের জুনে রাজ্য মন্ত্রিসভা এসআরডি শিক্ষকদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অপেক্ষার সময়কাল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা এএসপিটিএ-র দীর্ঘদিনের দাবির একটি আংশিক স্বীকৃতি ছিল। সাধারণ সম্পাদক রতুল চন্দ্র গোস্বামী তখন বলেছিলেন, “আমরা ক্রমাগত সরকারের কাছে এই বিষয়টি তুলে ধরেছি, এসআরডি-নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য বেতন বৃদ্ধির সময়কাল কমানোর দাবি জানিয়ে” ।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার শিক্ষকদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
এই বেতন সমস্যা হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যও সরাসরি প্রাসঙ্গিক, কারণ বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মিত হওয়া হাজার হাজার শিক্ষক গোটা রাজ্যেই ছড়িয়ে রয়েছেন, এবং হাইলাকান্দিও এর ব্যতিক্রম নয়। যদি এই বেতন ব্যবস্থা সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে স্থানীয় শিক্ষকরাও একই ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে পারেন।
হাইলাকান্দির প্রাথমিক শিক্ষকদের উচিত এএসপিটিএ-র স্থানীয় শাখার মাধ্যমে এই বিষয়ে আপডেট রাখা এবং প্রয়োজনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তাদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যা লিখিতভাবে জানানো। জেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও উচিত রাজ্য স্তরের এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে দ্রুত নিশ্চিত করা, যাতে হাইলাকান্দির শিক্ষকরা অহেতুক বেতন সংক্রান্ত জটিলতার শিকার না হন।
আগামী দিনের কর্মসূচি ও সম্ভাব্য পরিণতি
২৯ আগস্টের রাজ্যব্যাপী বৈঠকে বিভিন্ন উপবিভাগের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন যে সরকার যদি সমস্যার সমাধান না করে, তাহলে সংগঠন নতুন করে আন্দোলনের পর্যায় শুরু করবে কিনা। এই বৈঠক এএসপিটিএ-র ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে ।
আগামী দিনগুলোতে রাজ্য সরকার যদি ফিন-আসাম সিস্টেমে প্রতিশ্রুত পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে, যা রাজ্যজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী রণজ পেগু ও শিক্ষা দপ্তরের ওপর এখন দায়িত্ব বর্তেছে দ্রুত এই প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে শিক্ষকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করার, যাতে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কোনো অনিশ্চয়তার শিকার না হয়।