
আগামী ৯ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আসামের বিধানসভা নির্বাচন । কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শাসকদল বিজেপির অন্দরে টিকিট না পাওয়া একাধিক বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । বিশেষ করে বরাক উপত্যকায় এই অসন্তোষ সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে আসরে নেমেছেন রাজ্যের মন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া । শনিবার তিনি শিলচরে গিয়ে বাদ পড়া নেতাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন ।
ইতিমধ্যেই দলের মধ্যে বিদ্রোহের আঁচ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে । ঢোলাই (তফসিলি জাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্র থেকে পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ায় নিহার রঞ্জন দাস বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন । শুধু তাই নয়, আগামী নির্বাচনে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলেও ঘোষণা করেছেন । তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার পেছনে শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের ভূমিকা রয়েছে, যদিও সাংসদ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ।
এই ড্যামেজ কন্ট্রোল অভিযানের অঙ্গ হিসেবে জয়ন্ত মল্লবরুয়া শনিবার নিহার রঞ্জন দাস ছাড়াও শিলচরের বর্তমান বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী এবং উধারবন্দের বিধায়ক মিহির কান্তি সোমের সাথে বৈঠক করেন । এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী কৌশিক রাই এবং দলের রাজ্যের সহ-প্রভারী সুনীল শর্মা । আসন্ন নির্বাচনে বুথ স্তরের সমন্বয় বৃদ্ধি, তৃণমূল স্তরে দলের জনসংযোগ মজবুত করা এবং সংগঠনের মধ্যে একতা বজায় রাখার দিকেই এই আলোচনায় জোর দেওয়া হয় ।
বৈঠক শেষে দলের ঐক্যের বার্তা দিয়ে জয়ন্ত মল্লবরুয়া বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিজেপির সদস্য হিসেবে আমরা এক পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ। প্রার্থীপদ সহ কিছু সিদ্ধান্ত সবসময় সবার মনমতো নাও হতে পারে, তবে আমাদের প্রাথমিক পরিচয় হলো আমরা দলের একনিষ্ঠ কার্যকর্তা” । তিনি আরও যোগ করেন, “ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা সরিয়ে রেখে আমরা আলোচনা করেছি এবং আগামী নির্বাচনে দলের সাফল্যের জন্য একতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার সংকল্প নিয়েছি” ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাছাড়, শ্রীবৃমি এবং হাইলাকান্দি জেলা জুড়ে থাকা বরাক উপত্যকার ১৩টি বিধানসভা আসন রাজ্যের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । একদিকে বিজেপি ও তাদের শরিক দলগুলি যখন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ওপর ভরসা রাখছে, তখন অন্যদিকে কংগ্রেস স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ এবং শাসক দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে । এর মধ্যে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতাদের নির্দল প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামার ঘটনা বিভিন্ন কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলিতে ভোটব্যাংকে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে ।