
সোমবার হাজার হাজার দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে আসামের শিলচর শহরের রাস্তাঘাট কার্যত জনারণ্যে পরিণত হয়েছিল । আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এদিন শহরের রাজপথে দলীয় পতাকা এবং গগনভেদী স্লোগানের বন্যা বয়ে যায় । বিশেষ করে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি এই দিনটিকে তাদের বিশাল জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবেই বেছে নিয়েছিল ।
এই মেগা ইভেন্ট উপলক্ষে ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন (DSA) মাঠে বিজেপির পক্ষ থেকে এক বিশাল ‘মনোনয়ন সভা’-র আয়োজন করা হয় । সেখানে এক বিরাট জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন আসাম প্রদেশ বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া । তবে সভায় যোগ দিতে আসার পথে রাস্তায় এতটাই প্রবল যানজট ছিল যে, তিনি মাঝপথে নিজের গাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এবং সদরঘাট সেতু থেকে সভাস্থল পর্যন্ত পায়ে হেঁটেই পৌঁছান । লখিপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাজ্যের মন্ত্রী কৌশিক রাই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের এই বিপুল উপস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন । অন্যদিকে, দলের অভ্যন্তরে টিকিট না পাওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও দলের ঐক্যের সুস্পষ্ট বার্তা দিয়ে শিলচরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী এদিন দলীয় প্রার্থী রাজদীপ রায়ের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে হাসিমুখে পা মেলান ।
শাসক শিবিরের পাশাপাশি অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও এদিন নিজেদের জয়ের ব্যাপারে তীব্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন । সোনাই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শাসক জোটের শরিক অসম গণ পরিষদের (AGP) প্রার্থী করিম উদ্দিন বড়ভুইয়া অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেছেন যে, প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই তিনি অনায়াসে জয়লাভ করতে চলেছেন । তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছবি তুলে ধরেছে কংগ্রেস শিবির । শাসক বিরোধী বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী তীব্র হাওয়া রাজ্যে কাজ করছে বলে দাবি করে শিলচর কেন্দ্রের প্রথমবার দাঁড়ানো কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ পাল জানান, তাঁর সমর্থনে এদিন সাধারণ মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি আসলে পরিবর্তনেরই একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে ।