
আগামী ৯ই এপ্রিল আসাম বিধানসভা নির্বাচনে নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম হতে চলেছে উজানি আসামের মর্যাদাপূর্ণ যোরহাট আসন । সোমবার এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী, আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি তথা বর্তমান সাংসদ গৌরব গগৈ এবং বিজেপির বর্তমান বিধায়ক তথা প্রবীণ রাজনীতিক হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন । এই দুই নেতার লড়াই শুধুমাত্র একটি প্রভাবশালী আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং গোটা রাজ্য জুড়ে চলা বিজেপি এবং কংগ্রেসের বৃহত্তর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে ।
৪৩ বছর বয়সী গৌরব গগৈয়ের কাছে এই কেন্দ্রটি রাজনৈতিক ও আবেগগত—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । গত ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই যোরহাট লোকসভা আসন থেকেই বিজেপিকে হারিয়ে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা উজানি আসামে কংগ্রেসকে একটি শক্ত ভিত এনে দিয়েছিল । এর পাশাপাশি এই কেন্দ্রের সাথে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর পিতা তথা আসামের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত তরুণ গগৈয়ের রাজনৈতিক স্মৃতি । ১৯৬৮ সালে যোরহাট মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের সদস্য হিসেবে তরুণ গগৈয়ের রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল এবং পরে তিনি এখানকার সাংসদও নির্বাচিত হন । পিতার সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার আসন্ন নির্বাচনে তরুণ গগৈ-পুত্রের লড়াইকে কংগ্রেসের কাছে আরও বেশি প্রতীকী করে তুলেছে ।
সোমবার শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে গৌরব গগৈ বলেন, “এই নির্বাচনটি আসামের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার লড়াই” । রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও জানান, “রাজনীতির মান এমন এক লজ্জাজনক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে যে, রাজ্যের বাইরে এই নিয়ে কথা বলতেও আমরা কুণ্ঠাবোধ করি। জনজীবনকে পরিশুদ্ধ করে তার মর্যাদা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব এখন আমাদের সকলের কাঁধেই বর্তায়” ।
অন্যদিকে, ৬৭ বছর বয়সী বিজেপি প্রার্থী হিতেন্দ্র নাথ গোস্বামীর কাছে এই লড়াইটি হলো তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেওয়ার মঞ্চ । আসামের আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতির এক দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী তিনি । ১৯৯১ সালে অসম গণ পরিষদের (AGP) বিধায়ক হিসেবে তিনি প্রথমবার বিধানসভায় পা রাখেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও টানা জয়লাভ করে উজানি আসামে দলের এক অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন । কয়েক দশক এজিপিতে কাটানোর পর ২০১৩ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হিসেবে ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখেন । সোমবার দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যোরহাটের মানুষ কয়েক দশক ধরে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, এবং সেই একই প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা নিয়ে আমি পুনরায় তাঁদের সেবা করার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি” ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গগৈ বনাম গোস্বামীর এই সম্মুখসমর আসন্ন নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে । কংগ্রেসের কাছে এই কেন্দ্রে জয়লাভের অর্থ হলো উজানি আসামে তাদের পুনরুত্থানের দাবিকে আরও সুদৃঢ় করা । অন্যদিকে, এই অঞ্চলে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখার জন্য যোরহাট আসনটি ধরে রাখা বিজেপির কাছেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।