
রবিবার গভীর রাতে আসামের শোণিতপুর জেলায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় এক শিশু-সহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে । ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর একটি দ্রুতগামী ট্রাক এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে সরাসরি বা মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নিয়ে টিউলিপ চা বাগান (Tulip Tea Estate) থেকে তেজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল । কিন্তু পথিমধ্যেই এই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। শোণিতপুর জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) বরুণ পুরকায়স্থ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “দুর্ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়, এবং পরে ঢেকিয়াজুলি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে” । মৃতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের চালক বিজয় হেনসা ছাড়াও রয়েছেন হরি মাদগি, কুণাল কর্মকার, বিশেষ নাথ, সঞ্জিতা নাথ, সান্দিয়াশ্রী নাথ এবং সমীর নাথ ।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে ঢেকিয়াজুলি শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে রাবারটোলা (আলিচিঙ্গা) এলাকার কাছে, যা ঢেকিয়াজুলি থানার অন্তর্গত । ঢেকিয়াজুলি থানার ট্রাফিক ইন-চার্জ এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জানান, “অ্যাম্বুলেন্সটি রোগী নিয়ে তেজপুর মেডিকেল কলেজে যাওয়ার সময় ওরাং জাতীয় উদ্যান এলাকার দিকে ছুটে আসা একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা খায়। ঘাতক ট্রাকটি উত্তরাখণ্ডে নিবন্ধিত ছিল” ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পরিষ্কার, ঘাতক ট্রাকটি প্রবল গতিতে ছুটছিল এবং এর ফলেই এই মারাত্মক পরিণতি । দুর্ঘটনার পরপরই সুযোগ বুঝে দুর্ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ট্রাকের চালক । বর্তমানে সে পলাতক। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত পলাতক চালকের পরিচয় জানতে পারিনি” । অভিযুক্তকে দ্রুত জালে পুরতে ইতিমধ্যেই জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন । রাতের অন্ধকারে ঘটা এই ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং একাধিক যানবাহন মাঝরাস্তায় আটকে পড়ে মানুষের চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয় ।