
দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং আলোচনার পর অবশেষে কংগ্রেসের সাথে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করল অখিল গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন রাইজোর দল (Raijor Dal) । আসন্ন আসাম বিধানসভা নির্বাচনে রাইজোর দল ১৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এর মধ্যে ১১টি আসনে কংগ্রেস তাদের সরাসরি সমর্থন জানাবে এবং বাকি দুটি আসনে দুই দলের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ (friendly contest) হবে । জোরহাটে কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি গৌরব গগৈ এবং রাইজোর দলের প্রধান অখিল গগৈয়ের মধ্যে হওয়া এক গভীর রাতের বৈঠকের পর এই চুক্তিতে সিলমোহর পড়ে ।
আসন ভাগাভাগির এই চূড়ান্ত রূপরেখা অনুযায়ী, রাইজোর দলের সভাপতি অখিল গগৈ তাঁর পূর্ববর্তী কেন্দ্র শিবসাগর থেকেই পুনরায় নির্বাচনে লড়বেন । গত নির্বাচনে জেলে বন্দী থাকা অবস্থাতেই তিনি এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন । কালিয়াবর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে প্রদীপ কুমার বড়ুয়াকে এবং মারিয়ানি কেন্দ্র থেকে দলের একমাত্র মহিলা প্রার্থী হিসেবে লড়বেন জ্ঞানশ্রী বোরা । কংগ্রেসের তরফ থেকে রাইজোর দলকে মারঘেরিটা কেন্দ্রটিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ।
রাইজোর দলের অন্যান্য প্রার্থীরা যে সমস্ত কেন্দ্র থেকে লড়বেন, সেগুলি হলো— দলগাঁও, ধিং, সিসিবরগাঁও, ডিগবয়, বোকাখাত, মানস এবং তেজপুর । অন্যদিকে, গোয়ালপাড়া (পূর্ব) এবং গৌরীপুর— এই দুটি আসনে রাইজোর দল এবং কংগ্রেস, উভয় দলই নিজেদের প্রার্থী দেবে, যাকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ বলা হচ্ছে ।
এই জোটের ফলে আসামে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একটি শক্তিশালী মহাজোট তৈরি হলো, যেখানে কংগ্রেস এবং রাইজোর দল ছাড়াও আসাম জাতীয় পরিষদ (AJP), সিপিআই(এম), এপিএইচএলসি (APHLC) এবং সিপিআই(এমএল)এল রয়েছে । জোটের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেন, “কংগ্রেসের মতো দলের পক্ষে আসন ছাড়া সহজ নয়, তবে রাজ্যের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে জাতীয় নেতৃত্ব এতে রাজি হয়েছে” । অখিল গগৈও স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে গৌরব গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যেই তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন ।