
গত বছরের শেষের দিকে বিমান চলাচলে ব্যাপক ডামাডোলের পর অন্তর্দেশীয় বা ডোমেস্টিক ফ্লাইটের ভাড়ার ওপর যে অস্থায়ী ঊর্ধ্বসীমা (fare cap) চাপানো হয়েছিল, তা এবার তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (MoCA) জানিয়েছে, আগামী ২৩শে মার্চ, ২০২৬ থেকে এই বিধিনিষেধ আর কার্যকর থাকবে না । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া এবং বিমান পরিষেবার ধারণক্ষমতা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে ।
গত ২০২৫ সালের ৬ই ডিসেম্বর সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই ঊর্ধ্বসীমা আরোপ করতে বাধ্য হয়েছিল । সেই সময় পাইলটদের রোস্টার বা ডিউটি বন্টন সংক্রান্ত একটি বড়সড় সঙ্কটের জেরে ভারতের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo) হঠাৎ করেই হাজার হাজার উড়ান বাতিল করে দেয় । এর ফলে ব্যস্ত রুটগুলিতে টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে । যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং টিকিটের দাম সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রাখতেই তখন বাধ্য হয়ে কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল ।
ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হলেও বিমান সংস্থাগুলিকে কড়া বার্তা দিয়েছে মন্ত্রক । নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, বিমান সংস্থাগুলিকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং টিকিটের দাম স্বচ্ছ ও বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে । সংস্থাগুলি যাতে ইচ্ছেমতো ভাড়াবৃদ্ধি না করে, তা নিশ্চিত করতে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশনকে (DGCA) রিয়েল-টাইমে বা প্রতিনিয়ত ভাড়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিমান সংস্থাগুলি একাধিক পরিচালনাগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে । গত ১৮ই মার্চ অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সাথে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেটের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংস্থাগুলি ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা প্রত্যাহার সহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছিল । সেই বৈঠকের মাত্র দুদিন পরই সরকারের তরফ থেকে এই স্বস্তিদায়ক নির্দেশিকা জারি করা হলো ।