
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার ভারতীয় মুদ্রার রেকর্ড পতন ঘটল। মার্কিন ডলারের নিরিখে টাকার দাম প্রথমবারের মতো ৯৩-এর গণ্ডি পেরিয়ে গেছে, যা বিগত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এক দিনে হওয়া সবচেয়ে বড় পতন । বুধবার টাকার মান ৯২.৬৩-এ নেমে রেকর্ড গড়েছিল, কিন্তু শুক্রবার তা আরও ১ শতাংশেরও বেশি কমে ৯৩.৭৩৫০-এ নেমে আসে এবং শেষে ৯৩.৭১-এ গিয়ে বন্ধ হয় । এক সপ্তাহের হিসেবে টাকার এই ১.৩ শতাংশ পতন ২০২২ সালের শেষের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স ।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতের জন্য এই যুদ্ধ মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনছে । অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময়ের জন্য বৃদ্ধি পেলে তা ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে । বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলার খবরের পর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল, যদিও শুক্রবার তা কিছুটা কমে ১১০ ডলারের কাছাকাছি আসে । হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইউরোপের শীর্ষ দেশগুলি এবং জাপান ইতিমধ্যেই সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে এবং আমেরিকা তেলের সরবরাহ বাড়ানোর রূপরেখাও তৈরি করেছে ।
জ্বালানি তেলের এই প্রবল ধাক্কায় আতঙ্কিত হয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় শেয়ার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। শুধুমাত্র মার্চ মাসেই তাঁরা ভারতীয় ইকুইটি থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূলধন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে সবচেয়ে বড় মাসিক পতন । এই ব্যাপক মূলধন প্রত্যাহারের কারণে টাকার ওপর চাপ আরও বাড়ছে । জেবি ড্রাক্স অনরের এশিয়া ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজিস্ট বিবেক রাজপাল মনে করেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং জ্বালানির দাম চড়া থাকে, তবে টাকার দর ডলার প্রতি ৯৫ পর্যন্তও নেমে যেতে পারে । এই পরিস্থিতিতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে স্থানীয় তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির ক্রমাগত ডলারের চাহিদাও টাকার পতনের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।