
গত বছর রেকর্ড পরিমাণ চা রফতানি করে অভূতপূর্ব সাফল্য পেলেও, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ‘টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (TAI) বা টিএআই। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে চলতি ২০২৬ সালে ভারতের চা রফতানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সভাপতি শৈলজা মেহতা । রবিবার সন্ধ্যায় যোরহাটে টিএআই-এর অসম শাখার ৩৭তম দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় (Biennial General Meeting) বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন ।
গত বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মেহতা জানান, ২০২৫ সালে ভারতের চা রফতানি প্রায় ২৮০ মিলিয়ন কেজি ছুঁয়েছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৮,৪৮৮ কোটি টাকা । মূলত ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং চীনের মতো দেশগুলির ব্যাপক চাহিদার কারণেই এই রেকর্ড লাভ সম্ভব হয়েছিল। বিশেষ করে, অসমের ‘অর্থোডক্স চা’ (Orthodox tea) মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এই বৃদ্ধির পিছনে তার বিশাল অবদান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন । কিন্তু বর্তমানে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ থাকার খবরের জেরে তিনি আশঙ্কা করছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে চা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে রফতানির পরিমাণ, শিপিং রুট, দাম এবং পেমেন্ট চক্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে । এই সঙ্কট থেকে শিল্পকে বাঁচাতে তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা এবং রফতানির নতুন বাজার খোঁজার (market diversification) আবেদন জানিয়েছেন ।
আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চায়ের কদর বাড়াতে এবং শুধুমাত্র পাইকারি বিক্রির ওপর নির্ভর না করে ‘ভ্যালু-অ্যাডেড এক্সপোর্ট’ (value-added exports) বা উন্নত মানের ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি । অন্যদিকে, চা বাগানের শ্রমিকদের জমির পাট্টা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত অসম সরকার নিয়েছে, তার প্রশংসা করলেও এর বাস্তবায়নের আগে শিল্পের সমস্যাগুলি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি । তাঁর মতে, বহু ক্ষেত্রেই চা বাগানের জমি বন্ধক রাখা থাকে, তাই জমির মালিকানা হস্তান্তরের ফলে আইনি ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও, বর্তমান আইন অনুযায়ী বাগানের পরিকাঠামো এবং শ্রমিকদের বাসস্থানের দায়ভার যেহেতু কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়, তাই এর আইনি সমাধান জরুরি বলে তিনি মনে করেন ।