
সোমবার রাজ্যসভায় আলোচনা এবং পাশের জন্য পেশ করা হলো ‘সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বিল, ২০২৬’ (Central Armed Police Forces Bill, 2026) । মূলত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর গ্রুপ-এ (Group A) জেনারেল ডিউটি অফিসার এবং অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই বিলটি আনা হয়েছে। তবে এই বিলের একটি বিশেষ সংস্থান ঘিরে সংসদে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে । বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, ইন্সপেক্টর জেনারেল (IG) পদের মোট আসনের ৫০ শতাংশ, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) পদের কমপক্ষে ৬৭ শতাংশ এবং স্পেশাল ডিরেক্টর জেনারেল ও ডিরেক্টর জেনারেল (DG) পদের সমস্ত আসন ডেপুটেশনের মাধ্যমে আইপিএস (IPS) অফিসারদের দিয়ে পূরণ করতে হবে ।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ মহম্মদ নাদিমুল হক এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আলোচনা শুরু করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এটি কোনো প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং এটি একটি গুরুতর সাংবিধানিক উদ্বেগ তৈরি করবে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে বা ‘ফেডারেল ব্যালেন্স’-কে দুর্বল করে দেবে । ডিএমকে (DMK) সাংসদ তিরুচি শিবাও (Tiruchi Shiva) এই বিলের বিরোধিতা করে সিএপিএফ (CAPF) জওয়ানদের বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এই বাহিনীর ওপর নির্ভর করে, অথচ গত তিন বছরে ৫০ হাজারেরও বেশি জওয়ান চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কাজের অতিরিক্ত চাপ, মানসিক অবসাদ, পদোন্নতির অভাব এবং পরিবারের জন্য কোনো সুবিধা না থাকাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি ।
আম আদমি পার্টির (AAP) সাংসদ সঞ্জয় সিং এই বিলকে জওয়ানদের প্রতি চূড়ান্ত অবিচার বলে আখ্যা দিয়েছেন । সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বহু কমিটি সিএপিএফ কর্মীদের অধিকারের পক্ষে রিপোর্ট দিলেও, সরকার এই বিলের মাধ্যমে সেই অধিকার খর্ব করতে চাইছে । এই বিলটি পাশ হলে বাহিনীর নিজস্ব আধিকারিকদের উচ্চ পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ যে অনেকটাই কমে যাবে, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।