PM পোষণ সামাজিক অডিট অসমের ৯২৫টি স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই অডিটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মণ (PM POSHAN) প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা হবে। স্কুল পর্যায়ের মধ্যাহ্ন ভোজন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অডিট প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ২০ নভেম্বর, ২০২৬ ।
রাজ্যের PM পোষণ রাজ্য নোডাল অফিসারের দপ্তর থেকে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারদের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টার স্তরে সোশ্যাল অডিট ফ্যাসিলিটেশন টিম (SAFT) গঠন করতে বলা হয়েছে। এই অডিট পরিচালিত হবে অসম সোসাইটি ফর সোশ্যাল অডিটের (ASSA) সহযোগিতায়, যা পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে একটি সংস্থা। ২১ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ।
অডিটের আওতায় কী কী বিষয় থাকবে
PM পোষণ প্রকল্পের সামাজিক অডিটে স্কুলের অবকাঠামো, খাদ্যের গুণমান, রান্নাঘর-স্টোরের পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য বিতরণ প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা পরীক্ষা করা হবে। প্রতিটি SAFT-তে ৬-৮ জন সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে দুজন অভিভাবক থাকবেন, যাদের মধ্যে অন্তত একজন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল বা সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর (CWSN) অভিভাবক হতে হবে ।
এছাড়াও দুজন প্রতিনিধি থাকবেন ন্যাশনাল রুরাল লিভলিহুডস মিশনের (NRLM) অধীনে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা ভিলেজ অর্গানাইজেশন অফ উইমেন (VOW) থেকে। যেখানে VOW নেই, সেখানে কাছের কলেজের দুজন মহিলা যুবক থাকতে পারেন। একজন প্রতিনিধি থাকবেন শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করা কোনো নাগরিক সমাজ গোষ্ঠী থেকে, একজন প্রাক্তন সরকারি কর্মী বা প্রাক্তন সামরিক কর্মী এবং একজন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি থাকবেন ।
অডিট প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
সামাজিক অডিটের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি SAFT ক্লাস্টার সোশ্যাল অডিটর (CSA)-এর তত্ত্বাবধানে নির্বাচিত স্কুলগুলি পরিদর্শন করবে। অডিট প্রক্রিয়াটি চার দিনের চক্রের মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রথম দিনে স্কুলে প্রবেশ বৈঠক ও সমন্বয় ইউনিট গঠন, দ্বিতীয় দিনে নথি ও অবকাঠামো যাচাই, তৃতীয় দিনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে আলোচনা এবং চতুর্থ দিনে ফলাফল সংকলন ও স্কুল সভা অনুষ্ঠিত হবে ।
অডিটের আওতায় ৯২৫টি স্কুলের পাশাপাশি কামরূপ, কামরূপ (মেট্রোপলিটন) ও যোরহাটের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরও পরীক্ষা করা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি, যার মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত, ২০ নভেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য নোডাল অফিসার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে SAFT গঠনের সময় অসম সোসাইটি ফর সোশ্যাল অডিট ও সমগ্র শিক্ষার ব্লক মিশন অফিসের সাথে সমন্বয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ।
অসম ও বরাক উপত্যকার জন্য গুরুত্ব
অসমের বরাক উপত্যকার তিন জেলা—কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ—এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত। লালা টাউনসহ অঞ্চলের অনেক স্কুলে PM পোষণ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্ন ভোজন প্রদান করা হয়। এই অডিটের মাধ্যমে স্থানীয় স্কুলগুলিতে খাদ্যের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। অভিভাবকরা সরাসরি অডিট প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে স্কুলের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারবেন ।
স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যাহ্ন ভোজন প্রকল্পের গুণমান তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অডিটের মাধ্যমে কোনো ত্রুটি বা সমস্যা চিহ্নিত হলে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান উন্নত হবে এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্বের অডিটের ফলাফল ও শেখা
গত বছর অসমে ৯৩২টি স্কুলে PM পোষণ সামাজিক অডিট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অডিটে মোট ২,৬২৭টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে অবকাঠামোগত সমস্যা ছিল ৮৭৩টি, ওয়াশ কম্পোনেন্ট সম্পর্কিত ১২৭টি এবং MDM মেনু সম্পর্কিত ৪৫টি সমস্যা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা চিহ্নিত হয়েছিল রেকর্ড সংক্রান্ত ক্ষেত্রে, যা ছিল ৯১২টি ।
এই ফলাফল থেকে শিখে রাজ্য সরকার এবার আরও কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার PM পোষণ প্রকল্পের অধীনে মনিটরিং ও রেকর্ড-কিপিং শক্তিশালী করার নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রতিটি স্কুলকে চারটি অপরিহার্য রেজিস্টার—অ্যাকাউন্টস মেইনটেন্যান্স রেজিস্টার, ডেইলি পারফরম্যান্স রেকর্ড রেজিস্টার, ফুড গ্রেইনস/স্টক রেজিস্টার এবং ফুড টেস্টিং রেজিস্টার—নিয়মিত আপডেট রাখতে বলা হয়েছে ।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
PM পোষণ প্রকল্পের সামাজিক অডিটের মাধ্যমে রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পুষ্টির মান উন্নত করতে এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে । অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই অডিট প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর হবে। অডিটের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এতে করে অসমের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টির নিশ্চয়তা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।