রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ভাষণ দেবেন ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে। আজ শুক্রবার, ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণটি আকাশবাণী, দূরদর্শন এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ দেওয়ার প্রথা রয়েছে ।
২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এবার ভারত তার স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এছাড়াও, জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিও এই বছর পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণে এই দুই ঐতিহাসিক মাইলস্টোনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
৮০ তম স্বাধীনতা দিবসের বিশেষত্ব
২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৪৭ সালে ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়েছিল এবং ২০২৬ সালে সেই স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। যদিও কেউ কেউ বিভ্রান্তিতে পড়ে ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবস বলে মনে করেন, কিন্তু প্রথম স্বাধীনতা দিবসটিও গণনায় অন্তর্ভুক্ত করলে এটি ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস হয় ।
এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের থিম হলো ‘যুবা শক্তি, বিকশিত ভারত’। এই থিমের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের শক্তি এবং তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং প্রথমবারের মতো লালকেল্লার প্রাচীরে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরিবেশিত হবে ।
বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি
২০২৬ সালে জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৬ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গানটি রচনা করেছিলেন এবং এটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই উপলক্ষে সারা দেশে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।
লালকেল্লায় প্রথমবারের মতো ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পরিবেশিত হবে। এছাড়াও, সারা দেশে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আকাশবাণী কলকাতা থেকে বেতারবার্তা দেবেন ।
আসাম ও বরাক উপত্যকার প্রস্তুতি
আসামেও ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুয়াহাটি, শিলচর এবং অন্যান্য জেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বরাক উপত্যকার তিন জেলা—কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জেও বিশেষ অনুষ্ঠান পালিত হবে ।
লালা টাউনসহ হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিটি ঘরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন। এই বছর স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ তাৎপর্য বিবেচনা করে স্থানীয় পর্যায়েও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রত্যাশিত বিষয়বস্তু
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার ভাষণে দেশের উন্নয়ন, ঐক্য এবং তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি সম্ভবত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করবেন ।
এছাড়াও, তিনি দেশবাসীকে মূল কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাতে পারেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, জল ও মাটির সুরক্ষা এবং জৈব বৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বও তার ভাষণে থাকতে পারে। রাষ্ট্রপতি সম্ভবত ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্পের কথাও উল্লেখ করবেন ।
ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের অগ্রযাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং প্রধানমন্ত্রীর লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হবে ।
তরুণ প্রজন্মের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে একটি বিকশিত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্প এই বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মূল বিষয়বস্তু। ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি এবং স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি একসাথে উদযাপন করে দেশবাসী তাদের দেশপ্রেম ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরবে।