Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম আদমশুমারি স্ব-গণনায় ১১.৬ লক্ষ পরিবার নথিভুক্ত

অসম আদমশুমারি স্ব-গণনা পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ১১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৮৬টি পরিবারের অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৬ আগস্ট এই স্ব-গণনা প্রক্রিয়া শেষ হয়। জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায় হিসেবে চালু হওয়া এই ডিজিটাল উদ্যোগে রাজ্যের বাসিন্দারা নিজেরাই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক তথ্য জমা দিয়েছেন। সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে গণনার পরবর্তী পর্যায় ।

জেলাভিত্তিক অংশগ্রহণের নিরিখে কাছাড়, শ্রীভূমি এবং কোকরাঝাড় জেলা সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ রেকর্ড করে রাজ্যের সেরা তিনটি জেলা হিসেবে উঠে এসেছে। অসমের সেন্সাস অপারেশন্সের ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ পেগু, আইএএস, সোমবার সেন্সাস অপারেশন্স ডিরেক্টরেটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্ব-গণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং প্রক্রিয়াটিতে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার জন্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানান ।

কীভাবে কাজ করে স্ব-গণনা পোর্টাল

জনগণনা ২০২৭-এর ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো নাগরিকদের সরাসরি অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই স্ব-গণনা (Self-Enumeration বা SE) পোর্টালটি একটি সুরক্ষিত ওয়েব-ভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে যোগ্য বাসিন্দারা মাঠকর্মী বাড়িতে আসার আগেই নিজেদের পারিবারিক তথ্য জমা দিতে পারেন। তথ্য সফলভাবে জমা দেওয়ার পর একটি স্বতন্ত্র স্ব-গণনা আইডি (SE ID) তৈরি হয়, যা পরে গণনাকারীরা মাঠপর্যায়ে যাচাই করে নেন ।

এই পোর্টালটি অসমীয়া ও ইংরেজিসহ মোট ১৬টি ভাষায় উপলব্ধ ছিল, যাতে রাজ্যের সব শ্রেণির মানুষ সহজেই এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মোট ৩৩টি প্রশ্নের মধ্যে ২৭টি প্রশ্নের উত্তর নাগরিকরা নিজেরাই স্ব-গণনার মাধ্যমে দিতে পেরেছেন, বাকি ৬টি প্রশ্ন মাঠপর্যায়ে গণনাকারীরা পূরণ করবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় কোনো নথি বা ছবি আপলোড করার প্রয়োজন হয়নি ।

বাড়ি-বাড়ি গণনার নতুন পর্যায়

স্ব-গণনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই সোমবার থেকে অসমজুড়ে শুরু হয়েছে হাউসলিস্টিং ও হাউজিং সেন্সাস কার্যক্রম, যা চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই পর্যায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণনাকারীরা রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। যেসব পরিবার ইতিমধ্যে অনলাইনে তথ্য জমা দিয়েছেন, তাদের কেবল স্ব-গণনা আইডি দেখাতে হবে, যা যাচাই করে গণনাকারীরা তথ্য নিশ্চিত করবেন ।

বিশ্বজিৎ পেগু জানান, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া “কোনো বাদ নয়, কোনো পুনরাবৃত্তি নয়” এই মূলনীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হবে। তিনি আরও জানান, জনগণনা আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী সংগৃহীত তথ্য আইনত সুরক্ষিত এবং আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই আইনি সুরক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বাসিন্দাদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে আশ্বস্ত করেন ।

সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য সহযোগিতার আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জনগণনা ২০২৭-এর রাজ্য নোডাল অফিসার এবং অসমের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পার্থ পেগু। তিনি বাড়ি-বাড়ি গণনা পর্যায় শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে জনসাধারণের অব্যাহত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সেন্সাস অপারেশন্স ডিরেক্টরেট বাসিন্দাদের বাড়িতে আসা গণনাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে সঠিক তথ্য প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে রাজ্যের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা যায় ।

জনগণনা ২০২৭ ভারতের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল আদমশুমারি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই প্রক্রিয়ার জন্য একাধিক ডিজিটাল টুল চালু করেছিলেন, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল স্ব-গণনা পোর্টাল। প্রতিটি রাজ্যে ৩০ দিনের বাড়ি-বাড়ি গণনার আগে ১৫ দিনের একটি ঐচ্ছিক স্ব-গণনা সময়কাল রাখা হয়েছিল, যা অসমে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ।

বরাক উপত্যকা লালার জন্য গুরুত্ব

কাছাড় জেলা রাজ্যের সেরা তিনটি জেলার একটি হিসেবে উঠে আসা বরাক উপত্যকার জন্য একটি গর্বের বিষয়। প্রতিবেশী জেলা শ্রীভূমিও (করিমগঞ্জ) এই তালিকায় থাকায় স্পষ্ট বোঝা যায় যে বরাক উপত্যকার বাসিন্দারা এই ডিজিটাল উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ ও সচেতনতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। হাইলাকান্দি জেলা এই তালিকায় সরাসরি উল্লেখিত না হলেও, প্রতিবেশী জেলাগুলোর এই সাফল্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লালা টাউনসহ হাইলাকান্দির বাসিন্দারাও বাড়ি-বাড়ি গণনা পর্যায়ে সমান উৎসাহে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন যা করণীয় তা হলো, বাড়িতে আসা প্রশিক্ষিত গণনাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং সঠিক তথ্য প্রদান করা। যারা ইতিমধ্যে অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্ব-গণনা আইডিটি হাতের কাছে রাখা উচিত, যাতে গণনাকারী এলে দ্রুত তা যাচাই করা যায়।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই বাড়ি-বাড়ি গণনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসমের প্রতিটি পরিবারের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সম্পদ বণ্টন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হবে।

জনগণনার এই ডিজিটাল রূপান্তর ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বরাক উপত্যকাসহ রাজ্যের প্রতিটি জেলার বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলবে।

অসম আদমশুমারি স্ব-গণনায় ১১.৬ লক্ষ পরিবার নথিভুক্ত
Scroll to top