Read today's news --> ⚡️Click here 

হাইলাকান্দি স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন, তীব্র গরমে নতুন নিয়ম

হাইলাকান্দি স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে তীব্র গরম ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে। ১৭ আগস্ট, ২০২৬ থেকে জেলার সমস্ত স্কুলে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাইলাকান্দি জেলার সরকারি, প্রাদেশিকীকৃত এবং বেসরকারি স্কুলগুলোতে পঠনপাঠনের সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা মূলত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্ন প্রাথমিক (LP) স্কুলগুলো সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে। উচ্চ প্রাথমিক (UP) স্কুলগুলোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। হাই স্কুল, উচ্চ মাধ্যমিক এবং সিনিয়র সেকেন্ডারি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।

রাজ্যজুড়ে একই ধরনের পদক্ষেপ

হাইলাকান্দি একা নয়, অসমের একাধিক জেলা একই কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। গোলাঘাট, লখিমপুর, যোরহাট, হোজাই, বরপেটা, বঙাইগাঁও, নলবাড়ি, নগাঁও এবং শ্রীভূমি জেলাতেও সোমবার থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে, যেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্লাস সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেষ হচ্ছে । বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের (BTC) অধীনস্থ কোকরাঝাড়, চিরাং, বাক্সা, তামুলপুর ও উদালগুড়ি জেলাতেও একই ধরনের সময়সূচি সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে ।

এর আগে হোজাই জেলাতেও ১৪ আগস্ট থেকে একই কাঠামোর সময়সূচি চালু হয়েছিল, যেখানে নিম্ন প্রাথমিক সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ৩০ মিনিট, উচ্চ প্রাথমিক সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা এবং হাই ও উচ্চ মাধ্যমিক সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল । জেলাগুলোর নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে না ফেরা পর্যন্ত এই সংশোধিত সময়সূচি বলবৎ থাকবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত জরুরি হয়ে উঠল

গত কয়েক দিনে অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি বেশি । এই পরিস্থিতিতে ছোট শিশু থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের দুপুরের তীব্র রোদ ও গরম থেকে রক্ষা করাই প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালের তুলনামূলক শীতল সময়ে ক্লাস শেষ করে দিলে শিক্ষার্থীদের তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

যোরহাটের স্কুল পরিদর্শক তথা ডিইইও বুলি গগৈ ভূঞা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, স্কুলগুলোকে নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ, বৈদ্যুতিক পাখা সচল রাখা এবং শিক্ষার্থীদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হাইলাকান্দির স্কুলগুলোতেও অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

অভিভাবক স্কুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সকালের প্রার্থনা সভা ছায়াযুক্ত স্থানে আয়োজন করা, শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং তাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে অন্যান্য জেলার নজির অনুসরণ করে ।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরানো, পর্যাপ্ত পানীয় জল সঙ্গে দেওয়া এবং সম্ভব হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করানো। যেহেতু স্কুল দুপুরের আগেই ছুটি হয়ে যাচ্ছে, তাই সন্তানদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও রোদ এড়িয়ে করার চেষ্টা করা উচিত। স্কুলের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের এই পরিবর্তিত সময়সূচি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত করাও জরুরি।

বরাক উপত্যকা লালার প্রেক্ষাপট

হাইলাকান্দির প্রতিবেশী জেলা কাছাড়েও ইতিমধ্যে ১৪ আগস্ট থেকে একই কারণে স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে, যেখানে নিম্ন প্রাথমিক স্কুলগুলো সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলছে। শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ) জেলাতেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা—কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি—প্রায় একই সময়ে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।

লালা টাউনের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় স্কুলগুলোকে এখন থেকেই সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং দুপুরের আগেই ছুটি দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। স্থানীয় অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের ঘুম ও সকালের রুটিন এই নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা, যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে।

আগামী দিনের পরিস্থিতি

তাপমাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে না ফেরা পর্যন্ত হাইলাকান্দি জেলায় এই সংশোধিত সময়সূচি বলবৎ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের প্রকোপ কমে গেলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেলা প্রশাসন পুনরায় স্বাভাবিক সময়সূচি চালুর নির্দেশ দেয়। ততদিন পর্যন্ত অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘোষণার প্রতি নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের, যাতে ভবিষ্যতে সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন এলে তা দ্রুত জানা যায়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এই লক্ষ্যেই আগামী দিনগুলোতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

হাইলাকান্দি স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন, তীব্র গরমে নতুন নিয়ম
Scroll to top