Read today's news --> ⚡️Click here 

আটকে পড়া মানুষের প্রত্যাবর্তন শুরু, ফিরলেন ১৩১ জন

আটকে পড়া মানুষের প্রত্যাবর্তন শুরু হয়েছে মেঘালয় থেকে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪৬ জনের মধ্যে ১৩১ জন অসমবাসী নিরাপদে রাজ্যে ফিরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শিলংয়ে ১৯ আগস্ট ঘটে যাওয়া সহিংসতার জেরে অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থার পর দুই রাজ্যের সরকার আটকে পড়া যাত্রী, পর্যটক ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বয় জোরদার করেছে ।

মুখ্যমন্ত্রী সরমা জানান, বাকি ব্যক্তিদের দ্রুত ও নিরাপদে গুয়াহাটিতে ফিরিয়ে আনতে অসম সরকার মেঘালয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে। এই তথ্য প্রকাশ পায় শনিবার গুয়াহাটির কৈনাধরা সরকারি অতিথিশালায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর, যে বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াবলাং ধর ও অসমের মন্ত্রী অতুল বরা, এবং যা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ।

বৈঠকে যা সিদ্ধান্ত হলো

বৈঠকে দুই রাজ্যের সরকার পর্যটক, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল পুনরুদ্ধারে একগুচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়েছে। মেঘালয় সরকার ১৯ আগস্টের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী ধর জানান, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত ১৫টি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ।

অসমের মন্ত্রী অতুল বরা জানান, মেঘালয় খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (কেএসইউ) সভাপতি ও সম্পাদকসহ তিনজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে, এবং অসম-নিবন্ধিত গাড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মেঘালয়ে আটকে পড়া তিনশোরও বেশি অসম-নিবন্ধিত যানবাহনের প্রত্যাবর্তন ইতিমধ্যে সহজতর করা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে মেঘালয় হয়ে যাতায়াতকারী অসমের গাড়িগুলোকে নিরাপত্তা প্রহরায় নিয়ে যাওয়া হবে ।

সংখ্যায় সংকটের চিত্র

মেঘালয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৭৭০-এরও বেশি অসম-নিবন্ধিত যানবাহন নিরাপদে অসমে প্রবেশ করেছে। এদিকে অসমের কন্ট্রোল রুম মোট ৫৪টি জরুরি ফোনকল পেয়েছে, যাতে ২২টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও পাঁচটি পর্যটক গাড়িতে থাকা মোট ১৭৫ জনের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মেঘালয়ের কন্ট্রোল রুম ৩৭৯টি জরুরি ফোনকল পেয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য মানুষকে সহায়তা করেছে ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে আটকে পড়া প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি যানবাহন উমিয়াম হ্রদ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট পার হয়ে গেছে। দুই সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, মেঘালয়ে এখনও আটকে থাকা যাত্রী ও যানবাহনকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপদে অসমে ফিরিয়ে আনা হবে, এবং পর্যটক ও গাড়ি চালকদের সহায়তায় একটি পৃথক কর্মসূচিও চালানো হবে ।

বরাক উপত্যকা যাতায়াতের বিশেষ ব্যবস্থা

এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুই রাজ্য মেঘালয়ের ভেতর দিয়ে বরাক উপত্যকা ও অসমের অন্যান্য অংশের মধ্যে যাতায়াতকারী যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেও সম্মত হয়েছে। একইভাবে অসমের ভেতর দিয়ে মেঘালয়ের বিভিন্ন অংশে যাতায়াতকারী মানুষের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে । এটি হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বরাক উপত্যকা থেকে মেঘালয় হয়ে অসমের অন্যান্য অংশে যাতায়াতকারী অনেকেই এই অচলাবস্থার সরাসরি শিকার হয়েছিলেন।

মেঘালয় সরকার আরও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে রাজ্যে অবস্থানকালে অসম ও দেশের অন্যান্য অংশের পর্যটক ও যানবাহনের নিরাপত্তার দায়িত্ব তারা নেবে। এই আশ্বাস বরাক উপত্যকার সেইসব পরিবারের জন্য স্বস্তিদায়ক, যারা প্রতি বছর গ্রীষ্মের ছুটিতে বা পূজার মরশুমে শিলং ভ্রমণে যান।

ছাত্র সংগঠন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া

সর্বভারতীয় আসাম ছাত্র সংস্থার (আসু) উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, “অসম থেকে শিলংগামী ক্যাবসহ সব যানবাহনকে ভয়, বাধা বা হয়রানি ছাড়াই চলাচল করতে সক্ষম হতে হবে।” তিনি এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া তৈরির ওপর জোর দেন এবং জানান, আসু কেএসইউর সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবে ।

আসাম জাতীয় পরিষদের (এজেপি) সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ অসম-মেঘালয় সীমান্ত বিবাদের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে বলেন, “সীমান্তে বারবার সহিংসতা, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান । মুখ্যমন্ত্রী সরমা নিজেও মেঘালয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন ও গ্রেফতারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলেছেন যে গুয়াহাটির বোঝাপড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে ।

ভবিষ্যতে কী প্রত্যাশিত

দুই রাজ্যের সরকার এখন একটি স্থায়ী যৌথ ব্যবস্থা ও হেল্পলাইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায় বলে জানা গেছে । তবে আসু ও এজেপির মতো সংগঠনগুলোর দাবি স্পষ্ট করে দেয় যে, সাময়িক সমন্বয়ের চেয়ে এখন প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সমাধান।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মেঘালয়ে এখনও আটকে থাকা বাকি যাত্রী ও যানবাহন কতটা নিরাপদে অসমে ফিরে আসে, এবং এসআইটির তদন্ত কতদূর এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে দুই রাজ্যের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধারের গতি। ততক্ষণ পর্যন্ত হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাসহ সকল যাত্রীর জন্য সরকারি হেল্পলাইন ও সাম্প্রতিক তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ হবে।

আটকে পড়া মানুষের প্রত্যাবর্তন শুরু, ফিরলেন ১৩১ জন
Scroll to top