আসাম রাজ্যে জনগণনা ২০২৭-এর বাড়ি তালিকাকরণ কার্যক্রমে হাইলাকান্দি জেলা সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছে, যেখানে জেলাটি ৯৩.৩৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুসারে, জেলার ছয়টি সেন্সাস চার্জের মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যে শতভাগ বাড়ি-বাড়ি তালিকাকরণ সম্পন্ন করেছে । হাইলাকান্দি জনগণনা ২০২৭ শীর্ষে থাকার এই সাফল্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে লালা পৌর এলাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়।
কাটলিছড়া, হাইলাকান্দি ও লালা পৌর এলাকায় কাজ সম্পূর্ণ
জেলা প্রশাসনের সূত্র মতে কাটলিছড়া সার্কেল, হাইলাকান্দি এবং লালা পৌর এলাকা ইতিমধ্যে বাড়ি-বাড়ি তালিকাকরণের কাজ সম্পূর্ণ করেছে । একজন সেন্সাস কর্মকর্তা জানান, “হাইলাকান্দি জেলায় বাড়ি তালিকাকরণের কাজ ৯৩ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। জেলা জুড়ে ছয়টি চার্জ রয়েছে, যার মধ্যে তিনটি চার্জে জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ের বাড়ি তালিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে।”
হাইলাকান্দি আসামের অন্যতম প্রথম জেলা যারা একাধিক চার্জের কাজ সম্পূর্ণ করেছে । সেন্সাস কর্মকর্তা আরও জানান, “যতদূর আমরা জানি, হাইলাকান্দি আসামের প্রথম দিকের জেলাগুলির মধ্যে একটি যাদের চার্জ অফিসগুলি কাজ সম্পন্ন করেছে। আমাদের বাকি তিনটি চার্জ অফিস রয়েছে এবং এক দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে” ।
বরাক উপত্যকার অন্যান্য জেলার তুলনামূলক চিত্র
হাইলাকান্দির এই অভূতপূর্ব সাফল্য বরাক উপত্যকার অন্যান্য জেলার তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বনাথ জেলা, যারা প্রায় ৭৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে বরাক উপত্যকার অন্যান্য জেলাগুলির অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে—শ্রীভূমি জেলা প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং কাছাড় জেলা প্রায় ১৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে ।
শিলচর পৌর বোর্ড এলাকা একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মাত্র ২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে । এই তুলনামূলক পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন ও এর গণনাকারীরা সমগ্র বরাক উপত্যকার মধ্যে সবচেয়ে দক্ষতার সাথে এই জাতীয় কর্তব্য পালন করেছেন।
শিক্ষকদের অবদান ও কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ
একজন সেন্সাস কর্মকর্তা এই অগ্রগতির কৃতিত্ব গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করেছে যে আমাদের গণনাকারী ও সুপারভাইজাররা, যারা মূলত এলপি স্কুল ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানসিকভাবে কতটা সুস্থ ও দৃঢ়। তারা এটিকে একটি জাতীয় কর্তব্য হিসেবে পালন করেছেন” ।
কর্মকর্তা আরও জানান যে কাটলিছড়া ও অন্যান্য এলাকায় কর্মরত কর্মীরা প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসসহ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও মাঠপর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, “তারা এই সমস্ত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত হেঁটেছেন” । এই বিবরণ হাইলাকান্দি জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় কর্মরত শিক্ষক-গণনাকারীদের নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
জেলা প্রশাসনের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধান
আসাম সেন্সাসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল ভারতী চন্দ জেলায় সেন্সাস-সম্পর্কিত কাজ পর্যালোচনা করেছেন এবং সম্পূর্ণ দলের, বিশেষত গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন । তিনি হাইলাকান্দির ডেপুটি কমিশনার জয় বিকাশ, অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (সেন্সাস) মিনার্ভা দেবী এবং সেন্সাস জেলা ইনচার্জ বি কে পারেদার নেতৃত্বকে এই সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে যে বাকি বাড়ি তালিকাকরণের কাজ আগামী দুই দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে, যার ফলে হাইলাকান্দি সমস্ত ছয়টি সেন্সাস চার্জ জুড়ে শতভাগ সম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে। অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (সেন্সাস) মিনার্ভা দেবী আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে হাইলাকান্দি আগামী দুই দিনের মধ্যে শতভাগ সম্পূর্ণতা অর্জন করবে ।
জনগণনা ২০২৭-এর ব্যাপক প্রেক্ষাপট
জনগণনা ২০২৭ ভারতের অষ্টম জনগণনা, যা দুটি পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে—প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাকরণ ও আবাসন গণনা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা গণনা। এই গণনা স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৩০ লক্ষ গণনাকারী মোতায়েন করা হয়েছে আনুমানিক ১৪০ কোটি মানুষ গণনা করার জন্য ।
আসামে স্ব-গণনা পর্ব ২ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এবং বাড়ি তালিকাকরণ কার্যক্রম ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছিল। এই সময়সীমার মধ্যে হাইলাকান্দির এই অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি প্রমাণ করে যে জেলাটি নির্ধারিত সময়সীমার আগেই কাজ সম্পন্ন করার পথে রয়েছে।
লালা টাউন ও হাইলাকান্দিবাসীর জন্য এই সাফল্যের তাৎপর্য
লালা পৌর এলাকার এই সম্পূর্ণতা লালা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য একটি বিশেষ গর্বের বিষয়, কারণ এটি প্রমাণ করে যে স্থানীয় প্রশাসন, গণনাকারী ও সাধারণ মানুষ একযোগে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এই সাফল্য কেবল পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়, বরং এটি হাইলাকান্দি জেলার সুশাসন ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয়েরও একটি দৃষ্টান্ত।
এই তথ্য নির্ভুল ও সময়মতো সংগ্রহ ভবিষ্যতে হাইলাকান্দি জেলার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা, সম্পদ বরাদ্দ ও সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লালা টাউনসহ সমগ্র জেলার বাসিন্দাদের জন্য এই সাফল্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে যে তাদের এলাকা রাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় প্রশাসনিক দক্ষতায় এগিয়ে রয়েছে।