
জেনেটিক সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যের ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড়সড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। ‘অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ বা এবিএস-এর (ABS) ওপর নাগোয়া প্রটোকলের (Nagoya Protocol) আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট বা ‘ইন্টারন্যাশনালি রেকগনাইজড সার্টিফিকেটস অফ কমপ্লায়েন্স’ (IRCC) ইস্যু করার ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ভারত ।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আইআরসিসি (IRCC) মূলত একটি সরকারি প্রমাণপত্র, যা নিশ্চিত করে যে জেনেটিক সম্পদ ব্যবহারের আগে ব্যবহারকারী এবং প্রদানকারীর মধ্যে আইনি সম্মতি বা ‘প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট’ (Prior Informed Consent) নেওয়া হয়েছে এবং পারস্পরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে । এটি জীববৈচিত্র্য সম্পদ থেকে প্রাপ্ত লাভের ন্যায্য এবং স্বচ্ছ বন্টন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ‘এবিএস ক্লিয়ারিং-হাউস’-এর (ABS Clearing-House) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে এখনও পর্যন্ত মোট ৬,৩১১টি আইআরসিসি (IRCC) ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে ভারত একাই ৩,৫৬১টি শংসাপত্র প্রদান করেছে । অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী মোট ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেটের ৫৬ শতাংশেরও বেশি ভারত থেকে দেওয়া হয়েছে ।
এই প্ল্যাটফর্মে মোট ১৪২টি দেশ নিবন্ধিত থাকলেও, এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৪টি দেশ এই শংসাপত্র ইস্যু করতে সক্ষম হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যারা ৯৬৪টি সার্টিফিকেট প্রদান করেছে । এরপরে রয়েছে স্পেন, আর্জেন্টিনা, পানামা এবং কেনিয়ার মতো দেশগুলি । পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০০২ সালের জীববৈচিত্র্য আইনের (Biological Diversity Act, 2002) অধীনে ভারতের শক্তিশালী অ্যাlক্সেস এবং বেনিফিট শেয়ারিং পরিকাঠামোই এই বিশাল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ‘ন্যাশনাল বায়োডাইভারসিটি অথরিটি’ (National Biodiversity Authority), বিভিন্ন রাজ্যের বায়োডাইভারসিটি বোর্ড এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলি একসাথে কাজ করে এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত সহজ ও কার্যকরী করে তুলেছে ।