HSLC ২০২৬ ফেল ছাত্রদের পুনর্ভর্তির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে অসম স্টেট স্কুল এডুকেশন বোর্ড, ASSEB Division-I (প্রাক্তন SEBA)। বোর্ডের ২৩ জুন ২০২৬ তারিখের এই নোটিফিকেশনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যে সব শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের HSLC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি এবং পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাদের অবশ্যই দশম শ্রেণিতে পুনর্ভর্তি নিতে হবে। SEBA-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও এই নোটিফিকেশন প্রকাশিত হয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যালয়কে আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে পুনর্ভর্তির কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে হবে পুনর্ভর্তি — বোর্ডের বিস্তারিত নির্দেশিকা
ASSEB-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, HSLC ২০২৬ ফেল ছাত্ররা প্রথমে তাদের নিজেদের মূল বিদ্যালয়েই পুনর্ভর্তির চেষ্টা করবে। যদি কোনো কারণে সেই বিদ্যালয়ে আসন সংকুলান না হয়, সে ক্ষেত্রে একই পরীক্ষাকেন্দ্রের অন্য কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে। তবে পুনর্ভর্তি নেওয়া শিক্ষার্থীদের পুরনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাতিল করা হবে না — ভবিষ্যতের সমস্ত পরীক্ষায় একই নম্বর ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া ঐচ্ছিক বিষয় (elective subject) পরিবর্তনের সুযোগও দিচ্ছে ASSEB। তবে শর্ত হলো, এই পরিবর্তন অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার আগেই করতে হবে। অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার পরে আর কোনো বিষয় পরিবর্তনের অনুমতি থাকবে না। পুনর্ভর্তি নেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক মূল্যায়ন (practical assessment) ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের উপরেই বর্তাবে এবং সেই নম্বর নির্ধারিত পদ্ধতিতে ASSEB-তে জমা দিতে হবে।
অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় উপস্থিতি না হলে পরের HSLC দেওয়া যাবে না
ASSEB-এর নির্দেশিকায় একটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত হয়েছে — পুনর্ভর্তি নেওয়া শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণির অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে তাকে পরবর্তী HSLC পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। এই নিয়মটি কার্যত নিশ্চিত করছে যে, শুধু নাম নথিভুক্ত করলেই হবে না — শিক্ষার্থীকে পুরো শিক্ষাবর্ষে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পঠনপাঠনের অগ্রগতি নজরে রাখার। যেখানে প্রয়োজন সেখানে তাদের প্রতিকারমূলক ক্লাস (remedial class)-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই নীতির লক্ষ্য হলো HSLC ২০২৬ ফেল ছাত্রদের পুনরায় মূলধারার শিক্ষায় ফিরিয়ে এনে আগামী বছর পরীক্ষায় তাদের সাফল্যের সুযোগ তৈরি করা।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকায় এই নিয়মের প্রাসঙ্গিকতা
ASSEB-এর এই নির্দেশিকা বরাক উপত্যকার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। HSLC ২০২৬ পরীক্ষায় কাছাড়ে পাশের হার ছিল মাত্র ৪৯.১৩% — যা রাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন। হাইলাকান্দিতে পাশের হার ছিল ৫১.৮১%, এবং করিমগঞ্জে ৫২.৪০%। রাজ্যের গড় পাশের হার ৬৫.৬২% হলেও বরাক উপত্যকার কোনো জেলাই ৫৫%-এর গণ্ডি পেরোতে পারেনি।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, হাইলাকান্দি জেলায় — যার মধ্যে লালা টাউনও পড়ে — এই বছর একটি বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী HSLC-তে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ১০,১৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫,২৮২ জন পাশ করেছেন, অর্থাৎ প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থী এই পুনর্ভর্তির নিয়মের আওতায় আসতে পারেন। তাই লালা টাউনের বিদ্যালয়গুলো এবং অভিভাবকদের এই নির্দেশিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এখন অত্যন্ত জরুরি।
অভিভাবকদের কী করণীয়
যেসব পরিবারের সন্তান HSLC ২০২৬-এ ফেল করেছেন, তাদের জন্য নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, ১৪ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে নিজের বিদ্যালয়ে গিয়ে পুনর্ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভর্তির আগেই স্থির করতে হবে ঐচ্ছিক বিষয় বদলাতে চান কিনা, কারণ পরে এই সুযোগ থাকবে না। তৃতীয়ত, অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে, অন্যথায় পরের HSLC পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা থাকবে না। SEBA অর্থাৎ ASSEB-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট sebaonline.org-এ সম্পূর্ণ নোটিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে।
বরাক উপত্যকায় HSLC-র ফলাফলের এই হতাশাজনক চিত্র বারবার একই প্রশ্নটি সামনে নিয়ে আসে — পরিকাঠামোর অভাব, শিক্ষকস্বল্পতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে? ASSEB-এর পুনর্ভর্তির নিয়মটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে দীর্ঘমেয়াদে বরাক উপত্যকার ছাত্রছাত্রীদের পিছিয়ে পড়া ঠেকাতে কাঠামোগত পরিবর্তনই একমাত্র সমাধান। এই নির্দেশিকা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এবার ফেল করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষার হলে ফিরতে পারবে।