Read today's news --> ⚡️Click here 

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনে ধসে ব্যাহত ট্রেন চলাচল

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনে ফের ধসের কারণে ব্যাহত হলো ট্রেন চলাচল। ২৩ জুলাই রাতে ভারী বৃষ্টির জেরে আসামের ডিমা হাসাও জেলার নিউ হারাংগাজাও রেলস্টেশনের স্টেশন চত্বরের মধ্যেই কিলোমিটার ১১৮/১-৩ বরাবর এই ধস নামে, যাতে লাইন ১ এবং লাইন ২-এর প্রায় ২০০ মিটার রেললাইন বেঁকে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর) সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই দুটি লাইনে ট্রেন চলাচল স্থগিত করেছে, ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ দুটিতেই বিলম্ব ঘটছে।

কীভাবে ঘটল এই ধস

এনএফআর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনের এই দুর্ঘটনায় লাইন ১ এবং লাইন ২-এর ট্র্যাক আঘাতে বেঁকে গিয়ে সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে পড়ে, যার ফলে ওই দুটি লাইনে ট্রেন চালানো বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে লাইন ৩ এখনও সচল রয়েছে, যেখানে ঘণ্টায় মাত্র ১০ কিলোমিটার গতিসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে। এই সীমিত গতির কারণে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন—দুই ধরনের পরিষেবাতেই যথেষ্ট দেরি হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক মেরামতের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে এবং সিনিয়র রেলওয়ে আধিকারিকরা সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এনএফআর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সুরক্ষা শর্ত পূরণ হওয়ার সাথে সাথেই নিয়মিত পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের ঘোষণা অতীতেও একাধিকবার শোনা গেছে, কারণ ডিমা হাসাও জেলার এই পাহাড়ি রেলপথ প্রতি বর্ষায় একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে।

বারবার কেন বিপর্যস্ত হয় এই রেলপথ

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশন মূলত আসামের বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করার একমাত্র রেল সংযোগ, এবং এই কারণেই এখানকার প্রতিটি বিপর্যয়ের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। গত বছরও, ২০২৫ সালের জুন ও জুলাই মাসে এই একই সেকশনে অন্তত তিনবার বড় ধস নেমেছিল—প্রথমবার নিউ হাফলং-জাতিঙ্গা লামপুর এলাকায়, যেখানে প্রায় ১০০ মিটার ট্র্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলএবং সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এনএফআর তখন জানিয়েছিল, এনএইচএআই-এর সড়ক সংস্কার কাজের জন্য পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের ঢালে ধস নামে, যা রেললাইনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দিহাখো ও মুপা স্টেশনের মধ্যে কিলোমিটার ৫১/১-২ বরাবর আরও একটি বড় ধস নামে, যাতে গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেস, রংিয়া-শিলচর এক্সপ্রেস এবং আগরতলা-গুয়াহাটি স্পেশালের মতো একাধিক ট্রেন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করতে হয়েছিল। ওই সময় এনএফআর গুয়াহাটি, লামডিং, শিলচর, বদরপুর ও আগরতলা স্টেশনে বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খুলেছিল আটকে পড়া যাত্রীদের সাহায্যের জন্য। পুনরুদ্ধারের পর ট্রেন চলাচল শুরু হলেও, সেই সময় সতর্কতা হিসেবে ঘণ্টায় মাত্র ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে হয়েছিল—ঠিক যেমনটা এখন নিউ হারাংগাজাওতেও করা হচ্ছে।

বরাক ভ্যালি হাইলাকান্দির ওপর প্রভাব

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনে যে কোনো বিপর্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ে হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের ওপর, কারণ বদরপুর জংশনই বরাক উপত্যকার প্রবেশদ্বার এবং শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি থেকে গুয়াহাটি বা তার বাইরে যাওয়ার প্রধান ব্রডগেজ সংযোগ এই পথ দিয়েই যায়। যখনই এই সেকশনে ধস নামে বা গতি কমিয়ে দেওয়া হয়, তখন শিলচর-নির্ভর দূরপাল্লার ট্রেন—যেমন শিলচর-আনন্দ বিহার টার্মিনাস এক্সপ্রেস বা শিলচর-তিরুবনন্তপুরম এক্সপ্রেস—দেরিতে চলে বা পুনঃনির্ধারিত হয়, যার ফলে বরাক উপত্যকার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

চাকরি পরীক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত রেলযাত্রীদের জন্য এই বিলম্ব বিশেষভাবে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ বরাক উপত্যকা থেকে গুয়াহাটি বা তার বাইরে যাওয়ার বিকল্প সড়কপথও প্রায়শই বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। আগের ঘটনাগুলিতে দেখা গেছে, এই ধরনের বিপর্যয়ের সময় রাজ্য স্তরের নিয়োগ পরীক্ষার সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণ করতে হয়েছিল, যা এই রেলপথের ওপর বরাক উপত্যকার নির্ভরতার গভীরতা স্পষ্ট করে দেয়।

এখন কী প্রত্যাশিত

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনের বর্তমান পরিস্থিতিতে এনএফআর জানিয়েছে যে পুনরুদ্ধার কাজ যুদ্ধকালীন গতিতে চলছে, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই ধরনের ক্ষতির পূর্ণ মেরামতিতে সাধারণত কয়েকদিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে, তবে তা নির্ভর করে চলমান বৃষ্টিপাতের তীব্রতার ওপর। যতদিন না ট্র্যাক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ঘোষিত হয়, ততদিন লাইন ৩-এর ওপরই সমস্ত ট্রেন চলাচল নির্ভর করবে, যা সীমিত গতির কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর গতিতে চলবে।

বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য পরামর্শ হলো, যাত্রার আগে এনএফআরের সরকারি ঘোষণা ও স্টেশন সহায়তা কেন্দ্রের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নেওয়া। প্রতি বর্ষায় ফিরে আসা এই সমস্যা প্রমাণ করে, ডিমা হাসাওয়ের এই পাহাড়ি রেলপথের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য আরও মজবুত অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যাতে হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মতো এলাকার বাসিন্দারা প্রতি বছর একই সংকটের মুখোমুখি না হন।

লামডিং বদরপুর পাহাড়ি সেকশনে ধসে ব্যাহত ট্রেন চলাচল
Scroll to top