Read today's news --> ⚡️Click here 

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিল, একাধিক পরিষেবা সময়সূচি বদল

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের নতুন দফায় বরাক উপত্যকার যাত্রীদের ভোগান্তি আবারও বেড়েছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) লুমডিং-বাদরপুর পাহাড়ি অংশে কাজের জটিলতা ও ট্র্যাক-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে একাধিক ট্রেন বাতিল, আংশিক বাতিল এবং কিছু ট্রেনের সময়সূচি বদল করেছে। এনএফআর-সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬-২৭ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। শিলচর, হাইলাকান্দি, কাছাড় এবং গোটা বরাক অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এটি নতুন করে পরিকল্পনার চাপ তৈরি করেছে।

কোন ট্রেনগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের ক্ষেত্রে। ১৫৬১৫ গুৱাহাটী-শিলচর এক্সপ্রেস এবং ১৫৬১৬ শিলচর-গুৱাহাটী এক্সপ্রেসের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে ১৫৬১১ রঙিয়া-শিলচর এক্সপ্রেস, ১৫৬১২ শিলচর-রঙিয়া এক্সপ্রেস, ১৫৬১৭ গুৱাহাটী-দুল্লভছড়া এক্সপ্রেস, ১৫৬১৮ দুল্লভছড়া-গুৱাহাটী এক্সপ্রেস এবং ০৫৬৩৭/০৫৬৩৮ শিলচর-নাহারলাগুন স্পেশালও প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া ১৩১৭৬ শিলচর-শিয়ালদহ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, ১৪০৩৭ শিলচর-নিউ দিল্লি এক্সপ্রেস এবং ২০৫০১ আগরতলা-আনন্দবিহার রাজধানি এক্সপ্রেসের সময়ও বদলানো হয়েছে। এই তালিকা দেখাচ্ছে, শুধু লোকাল নয়, লং-ডিস্ট্যান্স যোগাযোগও একই সঙ্গে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

লুমডিং-বাদরপুর পাহাড়ি অংশে কেন বারবার সমস্যা

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের মূল কারণ আবারও লুমডিং-বাদরপুর পাহাড়ি অংশে স্লাইড, মাটি বসে যাওয়া বা রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত কাজ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ডিহাখো ও মুপার মাঝামাঝি বড়সড় ধসের পরও একই রুটে বারবার ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ, আংশিক চলাচল বা পুনঃনির্ধারণ একাধিকবার করতে হয়েছে। এনএফআর সূত্রে বলা হয়েছে, পাহাড়ি এই লাইনটি অতিবৃষ্টি, ধস, ট্র্যাক ক্ষয় এবং অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার কারণে সংবেদনশীল। তাই সামান্য গোলমাল হলেই বরাক উপত্যকার সঙ্গে দেশের বাকি অংশের রেল যোগাযোগে প্রভাব পড়ে।

এখানে যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হলো বিকল্প রুটের অভাব। শিলচর থেকে গুৱাহাটী কিংবা নিউ দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা—সব দিকেই নির্ভরতা মূলত একই লাইনের ওপর। ফলে এক জায়গায় ধস বা মেরামতির প্রয়োজন দেখা দিলেই পুরো নেটওয়ার্কে চাপ পড়ে। শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের এই পুনরাবৃত্তি বরাক অঞ্চলে রেলের স্থায়ী দুর্বলতাকেই আবার সামনে আনছে।

বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিক প্রভাব

এই দফার শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে পরীক্ষার্থী, চিকিৎসা-সংক্রান্ত যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং দৈনন্দিন ভ্রমণকারীদের ওপর। শিলচর, হাইলাকান্দি ও কাছাড় থেকে গুৱাহাটী যাতায়াত অনেকের জন্যই কেবল সফর নয়—এটা হাসপাতাল, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষ যারা শিলচরের মাধ্যমে ট্রেন ধরেন, তাঁদের আগাম পরিকল্পনা ছাড়া ভ্রমণ করা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। বাস-ভিত্তিক বিকল্প থাকলেও সময়, খরচ এবং নিরাপত্তার দিক থেকে তা সবার জন্য সহজ নয়।

এনএফআর-এর পূর্ববর্তী নির্দেশনায় দেখা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে কখনও ট্রেন আংশিকভাবে গুৱাহাটী বা নিউ হাফলংয়ে শেষ করা হয়, কখনও আবার পরিষেবা একেবারে বন্ধ রাখা হয়। ফলে স্টেশনভিত্তিক ঘোষণা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীরা শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তায় না পড়তে এনএফআর-এর আপডেট, রেলওয়ে হেল্পলাইন ও টিকিটিং নোটিশ নিয়মিত দেখে নেওয়া উচিত। শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের কারণে যাঁরা আগেভাগে যাত্রাপথ ঠিক করে রেখেছিলেন, তাঁদের সময়সূচিও বদলাতে হবে।

লালা টাউন হাইলাকান্দির কী করা উচিত

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিল শুধু শিলচরের সমস্যা নয়, বরং লালা টাউন, কাটলিচড়া, আলগাপুর, হাইলাকান্দি সদর—সব জায়গার বাসিন্দাদের জন্যই তা প্রাসঙ্গিক। বরাক উপত্যকার বহু মানুষ শিলচরকে ট্রেন-হাব হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে ট্রেন বাতিল হলে তাদের বাস, শেয়ার গাড়ি বা ব্যক্তিগত বাহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষত যাঁরা চিকিৎসা, ভর্তি, ফর্ম জমা, ইন্টারভিউ বা সরকারি কাজের জন্য ভ্রমণ করেন, তাঁদের আগের রাতেই বিকল্প পরিকল্পনা করে রাখা দরকার।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই ধরনের বিঘ্নে ক্ষতিগ্রস্ত হন, কারণ পণ্য পরিবহন, কর্মী চলাচল ও গ্রাহক যাতায়াত—সবই ধীর হয়ে যায়। তাই এলাকার মানুষকে শুধু “ট্রেন চলছে কি না” তা নয়, কোন ট্রেন আংশিকভাবে কোন স্টেশনে শেষ হচ্ছে, সেটাও নজরে রাখতে হবে। লালা টাউন থেকে শিলচর হয়ে যারা গুৱাহাটী বা কলকাতা রুটে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য রিটার্ন টিকিটের সময়ও বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিলের এই নতুন দফা দেখাচ্ছে, বরাক উপত্যকার রেল-সমস্যা এখনো কাঠামোগত সমাধান পায়নি। যতদিন না পাহাড়ি অংশের স্থায়ী সুরক্ষা, আরও দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প অপারেশনাল প্রস্তুতি গড়ে উঠছে, ততদিন এই রুটে এমন অস্থিরতা থেকে যাবে। যাত্রীদের এখন এনএফআর-এর পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে, কারণ পরের আপডেটেই ঠিক হবে কোন ট্রেন চালু হবে আর কোনটি আরও পিছিয়ে যাবে।

শিলচর-গুৱাহাটী ট্রেন বাতিল, একাধিক পরিষেবা সময়সূচি বদল
Scroll to top