Read today's news --> ⚡️Click here 

হাইলাকান্দি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২৫টি দোকান

হাইলাকান্দি জেলার লালা থানা এলাকার জয়কৃষ্ণপুর বাজারে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেল প্রায় ২০ থেকে ২৫টি দোকান। শুক্রবার, ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে এনই-এর প্রতিবেদন, যা দ্রুত পাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বাজার এলাকা আগুনের গ্রাসে নিয়ে যায়। এই হাইলাকান্দি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের সম্পত্তির ক্ষতি কয়েক লক্ষ টাকার অঙ্কে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল আগুন

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, রাতের নিস্তব্ধতায় প্রথমে একটি দোকান থেকে আগুন দেখা যায়, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণার মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়, যার পর বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়াস করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়দের প্রচেষ্টা যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি, এবং শেষ পর্যন্ত অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তবে এই হাইলাকান্দি বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকল বিভাগের প্রতিক্রিয়ার সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খবর পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, যার ফলে আগুন আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় বলে ইন্ডিয়া টুডে এনই-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সংবাদমাধ্যম বরতমান সময়-এর প্রতিবেদনেও একই অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা দমকল পরিষেবার বিলম্বকে ক্ষতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন।

প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর লালা থানা এবং আব্দুল্লাপুর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখর জ্যোতি রায় সহ সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা শুরু করেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রাথমিক অনুমান বলছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

জেলা পরিষদ সদস্য দিলওয়ার হোসেন বরভুইয়া ক্ষতিগ্রস্ত বাজার এলাকা পরিদর্শন করে দমকল পরিষেবার বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান। তিনি হাইলাকান্দি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গেও সংযুক্ত একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যা এই ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব তৈরির কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

লালা টাউনের জন্য কতটা উদ্বেগের বিষয়

এই হাইলাকান্দি বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা লালা টাউন ও তার আশেপাশের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ ঘটনাস্থল জয়কৃষ্ণপুর বাজার সরাসরি লালা থানার আওতাধীন এলাকা। প্রসঙ্গত, গত বছর সেপ্টেম্বরেও লালা টাউনের এনএস রোডে একটি গ্যাস সিলিন্ডার লিক থেকে সূত্রপাত হওয়া আগুনে একটি টায়ারের দোকান ও অটোমোবাইল দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল, যাতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছিল বলে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছর মে মাসে হাইলাকান্দির আলগাপুর বাজারেও একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

বারংবার এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হাইলাকান্দি জেলার বাজার এলাকাগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দমকল বাহিনীর প্রতিক্রিয়া সময়ের ঘাটতিকে স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন যে লালা ও তার আশেপাশের বাজার এলাকাগুলিতে আরও দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো অগ্নি নির্বাপণ পরিকাঠামো প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।

জয়কৃষ্ণপুর বাজারের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এগিয়ে যায়, তা আগামী দিনগুলিতে নজরে রাখার বিষয়। জেলা প্রশাসনের ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হলে আগুনের সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জীবিকা পুনরুদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন হাইলাকান্দিবাসীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

হাইলাকান্দি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২৫টি দোকান
Scroll to top