Read today's news --> ⚡️Click here 

নেপাল বন্যায় অসমের নিখোঁজ ১২ জনের তালিকা প্রকাশ করলেন হিমন্ত

নেপালে ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও বন্যায় এখনও পর্যন্ত অসম রাজ্যের ১২ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার, ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন যে, এই ১২ জনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে ।

নিখোঁজ ১২ জনের বিস্তারিত তালিকা

মুখ্যমন্ত্রী শর্মা প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিরা অসমের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা, যার মধ্যে কার্বি আংলং, গোলাঘাট, হোজাই, কামরূপ মেট্রোপলিটন এবং নলবাড়ি জেলা রয়েছে। কার্বি আংলং জেলার ডকমোকা থানার অন্তর্গত দাইদক গ্রামের তিনজন—ঋতুপর্ণ ব্রহ্ম, মন্ত্রী বসুমতরী এবং সোনেস্বর নরজারি—এই তালিকায় রয়েছেন ।

গোলাঘাট জেলার মেরাপানি থানার জয়পুকুরীর রাহুল দৈমারী এবং হোজাই জেলার দবোকার শতদল নাথও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। কামরূপ মেট্রোপলিটন ও নলবাড়ি জেলার ছয়জনও এই তালিকায় রয়েছেন, যাদের মধ্যে গুয়াহাটির রুক্মিণী গাঁওয়ের পঙ্কজ নাওগ, নলবাড়ির পঙ্কজ বরমণ, অরুণ মহন্ত ও সমর বেজবরুয়া, এবং গুয়াহাটির লঙ্কেশ্বরের ডাঃ দীপালি সরকার ও মানস কুমার ঘোষ রয়েছেন। নলবাড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডাঃ তীর্থ চালিহাও এই তালিকায় রয়েছেন ।

আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির হালনাগাদ

আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA) শনিবার, ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক বুলেটিনে জানিয়েছে যে, নেপালে ধ্বংসাত্মক বন্যার তিন দিন পর অসমের ১২ জনকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। ASDMA-এর তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন কামরূপ (মেট্রোপলিটন), তিনজন কার্বি আংলং, দুজন নলবাড়ি এবং একজন করে গোলাঘাট ও হোজাই জেলার বাসিন্দা ।

ASDMA আরও জানিয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে ১২ জনকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করা হলেও, পরবর্তীতে নলবাড়ির দুজন এবং কার্বি আংলংয়ের একজনের পরিবার নিশ্চিত করেছে যে তাঁরা নিরাপদ আছেন। তবে ASDMA এখনও স্বাধীনভাবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি বলে জানিয়েছে । এই হালনাগাদ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, নিখোঁজদের সংখ্যা পরিবর্তনশীল এবং উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির সাথে সাথে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে।

ভারত সরকারের উদ্ধার অভিযান পরিস্থিতি

পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয় নাগরিককে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন নাগরিক রয়েছেন। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান যে, ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সাথে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি এবং প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন ।

এছাড়াও ৯৬ জন ভারতীয় নাগরিক যারা চীনের দিকে আটকা পড়েছিলেন, তারা নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন এবং তাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি গতিশীল থাকায় এই সংখ্যাগুলো পরিবর্তনশীল বলেও মন্ত্রক সতর্ক করে দিয়েছে ।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার জন্য প্রাসঙ্গিকতা

হাইলাকান্দি জেলা এবং বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, পর্যটন বা ব্যবসায়িক কাজে নেপাল ভ্রমণ করে থাকেন। বিশেষ করে কৈলাস মানসরোবর যাত্রার সময় অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নেপাল হয়ে তিব্বত সীমান্তে যান। এই পরিস্থিতিতে আসাম সরকারের তরফ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলি হাইলাকান্দির বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো পারিবারিক সদস্য নেপালে আটকা পড়লে তাঁরা সরকারি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই তথ্য যে, আসাম সরকার ক্রমাগত নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের হেল্পলাইন নম্বরগুলোও সংরক্ষণ করে রাখা উচিত, যা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও ব্যবহারযোগ্য ।

নেপাল বন্যার সামগ্রিক পরিস্থিতি

নেপাল সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬১৬-এ পৌঁছেছে এবং এখনও ১,৫০০-এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ৭,৪৫১ জন কর্মী উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২,৩৯১ জন নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্য ।

ভারত সরকার এখন পর্যন্ত নেপালে ৪৭.৫ টন মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দিন ১০ টন এবং পরের দিন আরও ৩৭.৫ টন সামরিক পরিবহন বিমানের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রক একটি ২৪x৭ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে, যার হেল্পলাইন নম্বর +৯১ ১১ ২৩০৮ ৮৭১৮/৮৭১৯ এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য +৯১ ৯৯৬৮২৯১৯৮৮ নম্বরটি ব্যবহার করা যাবে ।

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রত্যাশা

আসাম সরকারের এই উদ্যোগ কেবল বর্তমান বিপর্যয়ের মোকাবিলাই নয়, বরং ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি মডেল হিসেবেও কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মার ঘোষণা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সরকার ক্রমাগত নেপালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১,৫৪৫ জন আহত ও আটকা পড়া মানুষকে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৪ জন কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসাম সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যের নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

নেপাল বন্যায় অসমের নিখোঁজ ১২ জনের তালিকা প্রকাশ করলেন হিমন্ত
Scroll to top