Read today's news --> ⚡️Click here 

লামডিং বদরপুর রেল লাইন ৬ মাস বন্ধ থাকতে পারে, উদ্বেগে বরাক উপত্যকা

উত্তর-পূর্ব ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লামডিং বদরপুর রেল লাইন গুরুতর ট্র্যাক ধসের কারণে আগামী ছয় মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)-এর কর্মকর্তারা। ডিমা হাসাও জেলার নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে ভূগর্ভস্থ জলের অনুপ্রবেশ এবং অস্থিতিশীল মাটির কারণে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ রেললাইনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের কাজকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ।

নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে ট্র্যাক ধসের সূত্রপাত অগ্রগতি

এই সমস্যার সূত্রপাত হয় গত জুলাই মাসের শেষের দিকে, যখন টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে লাইন-১ ও লাইন-২-এর নিচে মাটি ধসে পড়ে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ জুলাই থেকে এই দুটি লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত ভূমিধস পুনরায় ঘটেছে আক্রান্ত এলাকায় ।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি দিয়ে ধসে যাওয়া ট্র্যাক ভরাট করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু গভীর স্তর থেকে ক্রমাগত জল চুঁইয়ে আসার ফলে সেই মাটি বারবার ধুয়ে যায়। এই ব্যর্থতার পর NFR এখন ভূগর্ভস্থ জল নিষ্কাশন করে অস্থিতিশীল পাহাড়ি ঢাল স্থিতিশীল করার জন্য ভারী কাঠামোগত পাইলিং কাজ শুরু করেছে । ডিমা হাসাওয়ে সক্রিয় বর্ষা চক্রের কারণে মাটির যান্ত্রিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায়, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মূল ট্র্যাকের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারছে না।

বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা মিজোরামের সংযোগে প্রভাব

এই লামডিং বদরপুর রেল লাইনটি বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুরকে দেশের বাকি অংশের সাথে সংযুক্তকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেল পথ। বর্তমানে এই সমস্ত ট্রেন পরিষেবা কেবলমাত্র একটি লাইন, অর্থাৎ লাইন-৩-এর মাধ্যমে কঠোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা স্বাভাবিক পরিবহন ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছে  ।

আসাম ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিঘ্নের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা রাত ৭টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে। দিনের বেলায় নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতে এবং ক্রমাগত নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে । এই পরিস্থিতির ফলে গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন বারবার বাতিল ও পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বাতিলের ধারাবাহিকতা

সেন্টিনেল আসামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট যাত্রা শুরু করার কথা থাকা ট্রেন নং ১৫৬১৫ (গুয়াহাটি-শিলচর) এক্সপ্রেস এবং ২৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করার কথা থাকা ট্রেন নং ১৫৬১৬ (শিলচর-গুয়াহাটি) এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে । এই বাতিলের ঘটনা গত একমাস ধরে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ঘটে চলেছে, যা বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়াও মিজোরামের সাইরাং থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলাচলকারী ট্রেনগুলোও এই বিঘ্নের শিকার হয়েছে। হ্যালোরেল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রেন নং ১৫৬১০ সাইরাং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এবং ট্রেন নং ১৫৬০৯ গুয়াহাটি-সাইরাং এক্সপ্রেসের যাত্রার সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে । এই ধারাবাহিক বিঘ্নের ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের অভ্যন্তরীণ সংযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা

পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনা করে NFR এখন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য একটি স্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করছে। সেন্টিনেল আসামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিকল্প ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস রুটগুলোর অস্থায়ী বাতিলকরণ ও পুনঃনির্ধারণ অব্যাহত থাকবে ।

এই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের প্রয়োজনীয়তা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, শুধুমাত্র মেরামতির মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নাও হতে পারে। রেলওয়ে প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করলেও, ক্রমাগত ভূমিধস এবং জল অনুপ্রবেশের কারণে প্রচলিত পদ্ধতিতে সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের ক্ষোভ হাইলাকান্দির জন্য প্রভাব

এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। উত্তর কাছাড় পাহাড় স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ (NCHAC)-এর প্রাক্তন মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য সমরজিৎ হাফলংবার গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেসের অবিলম্বে পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন, যা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে স্থগিত রয়েছে বলে জানিয়েছে ।

হাইলাকান্দি জেলা এবং ললা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য এই রেল বিঘ্ন সরাসরি প্রভাব ফেলছে, কারণ এই লাইনটিই বরাক উপত্যকার সাথে গুয়াহাটি ও দেশের বাকি অংশের প্রধান রেল সংযোগ। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চিকিৎসা প্রয়োজনে ভ্রমণকারী এবং নিয়মিত যাত্রীরা এই বিঘ্নের কারণে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। বিকল্প সড়কপথে ভ্রমণ সাধারণত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল, ফলে রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত থাকবে।

আগামী দিনের প্রত্যাশা পর্যবেক্ষণ

লামডিং বদরপুর রেল লাইনের এই সংকট সমাধানে NFR-এর পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তার দিকে এখন নজর থাকবে বরাক উপত্যকা, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুরের লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার। যদি ছয় মাসের এই আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়, তবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, পণ্য পরিবহন এবং যাত্রী চলাচলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের স্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে হবে এবং NFR-এর নিয়মিত আপডেটের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

লামডিং বদরপুর রেল লাইন ৬ মাস বন্ধ থাকতে পারে, উদ্বেগে বরাক উপত্যকা
Scroll to top