Read today's news --> ⚡️Click here 

হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় প্রতিবাদে উত্তপ্ত ডিসি অফিস চত্বর

হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় প্রকল্প থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের বাইরে বিশাল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আলগাপুর-কাটলিছড়া কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক জুবের আনামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা ডিসি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হালকা লাঠিচার্জের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় ।

হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় প্রতিবাদের সূত্রপাত কারণ

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ হলো, রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান কল্যাণমূলক প্রকল্প অরুণোদয়ের অধীনে যোগ্য উপভোক্তাদের নাম হালনাগাদ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ নতুন নয়—হাইলাকান্দিতে এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিন টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরেও অসম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ (AJYCP)-এর হাইলাকান্দি শাখা অরুণোদয় ৩.০ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল, যেখানে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছিলেন যে প্রকৃত ও অভাবী উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে চাকুরিজীবীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ।

এই ধরনের অভিযোগ কেবল হাইলাকান্দিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইন্ডিয়া টুডে এনই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসেই ডিব্রুগড় জেলার খোয়াং উপ-জেলা কার্যালয়ে ১০০-রও বেশি নারী অরুণোদয় উপভোক্তা তালিকা থেকে রাজনৈতিক কারণে তাদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন, যেখানে তারা দাবি করেছিলেন যে বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন এবং বিশেষভাবে সক্ষম নারীদের নামও অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে ।

অরুণোদয় প্রকল্পের গুরুত্ব বর্তমান কাঠামো

অরুণোদয় প্রকল্প অসম সরকারের অন্যতম প্রধান নারী কল্যাণ ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। অসম বিজেপি বিধায়ক ঋতুবরণ শর্মা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের অধীনে বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন নারী, অবিবাহিত নারী এবং দিব্যাংজনসহ প্রায় ৪০ লক্ষ নারী উপভোক্তা মাসিক ১,২৫০ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন ।

সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছে। গুয়াহাটি প্লাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার উপভোক্তারা এই মাসে ২,০০০ টাকা পাবেন, যেখানে অন্যান্য জেলার উপভোক্তারা পাবেন ১,২০০ টাকা, যা ১০ সেপ্টেম্বর তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে । তবে এই আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমাগত অসন্তোষের সৃষ্টি করছে।

রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ

এই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারও কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অসমের অর্থমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবাড়ুয়া সম্প্রতি গুয়াহাটিতে ১২৬ জন অরুণোদয় সারথিকে দরিদ্র ও যোগ্য উপভোক্তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে, এই সারথিদের সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত অভিযোগ সমাধানের দায়িত্ব নিতে হবে ।

তবে হাইলাকান্দির প্রতিবাদকারীরা মনে করছেন যে, এই ধরনের প্রশাসনিক আশ্বাস যথেষ্ট নয় এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়া প্রকৃত উপভোক্তাদের নাম পুনর্বহাল করার জন্য তাদের সরাসরি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাতে হচ্ছে। কংগ্রেস বিধায়ক জুবের আনামের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে প্রমাণ করে।

হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় সংক্রান্ত অসন্তোষের ধারাবাহিকতা

উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ একটি ধারাবাহিক সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গত বছর একই সময়ে (সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুরূপ প্রতিবাদ হয়েছিল, যেখানে বিক্ষোভকারীরা এক মাসের মধ্যে তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন এবং সমস্যা সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন । এই বছরও একই ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে গুরুতর সমস্যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

হাইলাকান্দি জেলার বহু পরিবার, বিশেষত বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্ন নারী এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষ, এই মাসিক আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল। তাদের নাম আকস্মিকভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাদের পরিবারের মাসিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে, যা এই বিক্ষোভের তীব্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ললা টাউন বরাক উপত্যকার জন্য এই ঘটনার তাৎপর্য

হাইলাকান্দি জেলা সদরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ললা টাউন এবং জেলার অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিকতা বহন করে, কারণ অরুণোদয় প্রকল্পের সুবিধা পুরো জেলা জুড়েই বিস্তৃত। যদি তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকে, তবে ললা টাউনের আশেপাশের গ্রামাঞ্চলের উপভোক্তারাও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই পরিস্থিতি থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—যদি কোনো উপভোক্তার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে তাদের উচিত অবিলম্বে স্থানীয় অরুণোদয় সারথি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে অভিযোগ নিবন্ধন করা। প্রশাসনিক পর্যায়ে সমাধান না পেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে তোলার সুযোগও রয়েছে।

আগামী দিনের প্রেক্ষাপট প্রত্যাশা

হাইলাকান্দিতে এই বিক্ষোভের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং তালিকা সংশোধনের দাবি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার দিকেই এখন নজর থাকবে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কংগ্রেস বিধায়ক জুবের আনামের নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলন যদি কার্যকর ফল না দেয়, তবে গত বছরের মতোই আরও বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

রাজ্য সরকারের অরুণোদয় সারথি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ সমাধানের প্রতিশ্রুতি হাইলাকান্দির প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিক্ষোভ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে কিনা। ততদিন পর্যন্ত হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের এই বিষয়ে প্রশাসনিক হালনাগাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

হাইলাকান্দিতে অরুণোদয় প্রতিবাদে উত্তপ্ত ডিসি অফিস চত্বর
Scroll to top